হেফাজত ইসলাম জঙ্গি সংগঠন এটা আগে মনে হয়নি কেন?

হেফাজত ইসলামকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশের একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ইউএসএ কমিটি ফর সেকুলার অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। এই সংগঠনগুলির কি হঠাত করে মনে হয়েছে হেফাজত ইসলাম জঙ্গি সংগঠন? যখন এই সংগঠন প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, ‘নাস্তিক হত্যা করা ওয়াজিব’ ‘কাদিয়ানীদের কবর থেকে তুলে লাশ নদীতে ফেলে দিতে হবে’ ‘হিন্দুরা সব চোর’ তখন এই সংগঠনগুলি বালির নিচে মুখ লুকিয়ে ছিলো কেন? কারণ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ বলতে এই সংগঠনগুলি স্রেফ আওয়ামী লীগের বন্দনাকেই বুঝে থাকে। তখন পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে হেফাজতের ভালো সম্পর্ক থাকায় হেফাজত প্রকাশ্যে নাস্তিক সংখ্যালঘু ভিন্ন মতালম্বী মানুষদের হত্যার কথা বললেও তাদেরকে জঙ্গি মনে হয়নি। এখন সরকার ফেলে দেয়ার চেষ্টা শুরু হতে হেফাজত জঙ্গি হয়ে গেছে! এই স্মারকলিপি আমেরিকাকেই কেন দিতে হবে? নিজের দেশের সরকারকে কেন হেফাজতকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে বলছে না? প্রিয়া সাহা বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষা করতে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের এই ইসলামপন্থিদের কথাই বলেছিলো। তখন প্রিয়া সাহা যে সত্য বলছে সেটা কেউ স্বীকার না করে তাকে একতরফা দেশদ্রোহি বলেছিলেন কেন? বাংলাদেশে কোন জঙ্গি নেই বলে এখন বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসাকেই জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করতে আমেরিকাকে অনুরোধ করে কি বাংলাদেশে জঙ্গি আছে প্রমাণ হচ্ছে না? ‘মাদ্রাসায় জঙ্গি হয় না’ বলা মন্ত্রীদের বিষয়ে কি এখন ‘খতিয়ে’ দেখা হবে?
আসলে বাংলাদেশে হেফাজত ইসলামকে নিয়ে এখন যেটা হচ্ছে সেটা রাজনৈতিক পাশা খেলা। সত্যিকারের জঙ্গি নির্মূলের ইচ্ছে থাকলে হেফাজত ইসলামকে বহু আগেই দমন করা হত। মামুনুল হকের নামে একের পর এক যে মামলাগুলো হচ্ছে আমার ধারণা সেগুলোর বেশির ভাগই ফটকা কেস। মেরিট একদমই নেই। সেসব মামলা থেকে মামুনুল সহজেই বেরিয়ে আসবে। অথচ সন্ত্রাস জঙ্গিবাদকে উশকে দিতে হেফাজত নেতাদের সত্যিকারের বিচার করতে হলে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মামলা সাজানো যেত। সেটি করা হচ্ছে বলে মনে হয় না। আসলে সরকার যুদ্ধাপরাধী জামাত ইসলামকেও নিষিদ্ধ করেনি। হেফাজত ইসলামকেও নিষিদ্ধ করবে না। নিয়ন্ত্রণ করবে মাত্র। এদেশে ইসলামপন্থি ও ইসলামিক বামপন্থিদের রাজনীতি করতে হলে ভারত ও হিন্দু জুজু দেখিয়ে রাজনীতি করতে হবে। তেমনি আওয়ামী লীগকেও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জুজু দেখিয়েই রাজনীতি করতে হবে। এগুলো নির্মূল করা হলে কি দেখিয়ে জনগণকে ভয় দেখাবে? মশা চিরতরে নির্মূল হয়ে গেলে কয়েল কোম্পানিই তো উঠে যাবে! বাংলাদেশে সেই রাজনীতিই চলছে…।
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix