রমজান মাসে পহেলা বৈশাখ: ইসলামের সঙ্গে সংস্কৃতির লড়াই?

“ইসলামের সঙ্গে বাঙালী সংস্কৃতির কোন বিরোধ নাই” বলা ভন্ড লোকগুলো কোথায় কেউ জানেন? পহেলা বৈশাখ ৯০ ভাগ মুসলমানদের জীবনে আজ কোথায় যখন একই দিনে রোজার প্রথম দিন পড়েছে? প্রথম আলোসহ সব জাতীয় দৈনিকে রোজা উপলক্ষ্যে শিরোনামে লিখেছে “আহলান সাহলান খোশ আমদেদ মাহে রমজান”। এই শুভেচ্ছার মধ্যে কোথায় বাঙালীয়ানা আছে দেখান তো? এই বিতর্ক বাদ দিলেও রোজার সময় পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস যেটাই পড়ুক সবই সাধারণ মুসলমানদের আরবী সংস্কৃতির চাপে হারিয়ে যায় কেন? দয়া করে করোনা পরিস্থিতির দোহাই দিবেন না। রোজার সময় বৈশাখ এই বছরই প্রথম পড়েছে তা নয়। আগামী কয়েক বছর পহেলা বৈশাখ রোজার সময় পড়বে। তখন মুসলমানদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের ঠেলায় কি মেলা পান্তা ইলিশ মঙ্গলশোভা যাত্রা রমনায় প্রথম প্রহরে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে সাড়া মিলবে? অতিত ইতিহাস বলেছে প্রগতিশীল বাঙালী মুসলমানরাও আগে মুসলমান তারপর বাঙালী। সেই বাঙালীও হিন্দুয়ানী ঝেরে ফেলা মুসলমানদের নিজস্ব সংস্কৃতি নির্মাণের চেষ্টায় হিন্দুদের থেকে স্বাতন্ত্র জাতি সত্ত্বা হতে চাওয়া লড়াকু সৈনিক! চারুকলার মঙ্গলশোভা যাত্রা নিয়ে প্রতিবারের মত এবারও ভার্চুয়ালি যে খিস্তি করা হয়েছে তার কিছু স্ক্রেণশর্ট দিলাম। এটা পুরো বাংলাদেশের মানুষের সাধারণ সরল স্বীকারোক্তি। এদেরকে ‘জঙ্গি’ বলে আলাদা কিছু বুঝাতে গেলে ঠগ বাছতে গা উজার হয়ে যাবে। ইসলাম বাদ্য সংগীতের যেখানে স্থান নেই সেখানে কি করে ইসলাম ও বাঙালী সংস্কৃতি সাংঘর্ষিক হয় না? ইসলাম এমন কোন সংস্কৃতি আছে যার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করে না? আরবদের সংস্কৃতিকে ইসলাম শেকড় শুদ্ধ উপড়ে ফেলেছিলো। একজন চাকমা মারমা যদি ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়ে যায় সে কি ফুল বিজু পালন করতে পারবে? এসব তো তার কাছে শিরক! আদিবাসী সংস্কৃতিতে নারী পুরুষের মিলিত যে উত্সব একজন ধর্মান্তিরত মুসলিম আদিবাসী কি তার ইসলামী শরীয়া জ্ঞানে সেসব পালন করতে পারবে? পারবে না। তাহলে ইসলামের সঙ্গে সংস্কৃতির বিরোধ নেই সেটা কে বলল? তীতুমীর, হাজি শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের ‘হিন্দুদের মত নাম’ পোশাক, উত্সবের বিরোধীতা করে ওহাবী আন্দোলন করেছিলো না? যদি বাঙালী সংস্কৃতির সঙ্গে ইসলামের বিরোধ না থাকবে তাহলে সেই আন্দোলন এত জনপ্রিয় হয়েছিলো কেন? যদি আপনি নিজে সেসব বিশ্বাস না-ই করবেন তাহলে তিতুমীর শরীতুল্লার ওহাবী আন্দোনককে জঙ্গিবাদ না বলে স্বাধীনতা আন্দোলন বলছেন কেন?

এই সেদিন প্রথম আলোতে আলতাভ পারভেজ ফুরফুরা পীরজাদার জন্য বিগলিত হয়ে এক জায়গায় লিখেছিলেন, ইসলামের সঙ্গে সহজাত বাঙালী সংস্কৃতির কোন বিরোধ নাই। উফ! গ্রামসি লেলিন মার্কস ধর্ম তাদেরকে কতখানি অন্ধ ইসলাম প্রেমি করে তুলেছে যে বাঙালী মুসলমানের আত্মপরিচয় সংকটকে দেখেও এরা দেখতে পায় না! বাংলাদেশের আমজনতার প্রতিছবি হয়ে ফুটে উঠা এই স্ক্রেণশর্টগুলো বামাতীরা মাঠ পর্যায়ে জরিপ করেই জেনেছে। এ জন্যই এরা মৌলবাদী ইসলামিকদের লেজুর ধরে বিপ্লব করতে চাইছে। অপরদিকে এই বিপুল জনগোষ্ঠিকে রেখে সরকার সরকারী কর্মচারীদের বৈশাখী বোনাস দিলেই কি তারা বাঙালী সংস্কৃতিতে আত্মস্থ হবে? দেশটাকে ইসলামিকরণ করে তুলে বৈশাখী বোনাস দেয়া জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয় মাত্র। সেহরির সময় পাড়ায় পাড়ায় যুবকদের গজল গেয়ে ডাকাডাকি, কালো কাপড়ে ঢাকা রাস্তার চায়ের দোকান, তারাবী, ইফতারি বাজার- এসবের ভীরে রবীন্দ্রনাথ বৃথায় ডাকেন ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো…

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix