মুসলমানের মানবতাবোধ

একটি ছবিতে দেখুন নিউ ইয়র্কের টাইম স্কোয়ারে ইজরাইলের সমর্থনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অর্থডক্স ইহুদীরা ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে নিয়ে ফিলিস্তিনিদের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে। হামাসের হামলায় ইজরাইলের ভেতরেও সাধারণ মানুষ মরছে। তবু ইহুদীরা দুইরকমভাবে শান্তিপূর্ণ সহাবাস্থানে প্রতিবাদ করে গেছে। আপনি পৃথিবীতে একটি মুসলমান দেখান যারা হামাসের হামলায় মৃত ইহুদীদের জন্য দু:খ প্রকাশ করে দুই পক্ষকে থামতে বলছে? একজনও পাবেন না। দ্বিতীয় ছবির কমেন্টগুলো দেখুন-
হামাসের রকেট হামলায় ইজরাইলে নার্সের চাকরি করা ভারতীয় নারীর মৃত্যু সংবাদে মুসলমানদের শোকবাণীগুলো এই অঞ্চলের ৯০ ভাগ মুসলমানের রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থান। পৃথিবীর সব ইহুদী জায়নবাদী নয়। বেশির ভাগ ইহুদীই জায়নবাদ বিরোধী। কিন্তু পৃথিবীর সব মুসলমান মুসলমানবাদী। হোক সে কমিউনিস্ট, মডারেট, নাস্তিক, লিবারাল…। নইলে পাকিস্তান-বাংলাদেশের মাটি থেকে কেন অমুসলিমরা তাদের জমি হারায় সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিরোধ প্রতিবাদ ছাড়া? গোবিন্দগঞ্জের সাঁতালদের জমি সরকারীভাবে আত্মসাতের পর বাংলাদেশের টেলিভিশন টকশোগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে এনে তাদের দিয়ে বলানো হয়েছে, এইদেশে বাঙালীরাই আদিবাসী, ‘উপজাতিরা’ বাইরে থেকে এসেছে…।
আজকে খবর বেরিয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ সীতাকুণ্ডের ৭০টি ত্রিপুরা পরিবারকে উচ্ছেদ করে জমি দখল করছে। গোবিন্দগঞ্জের সাঁতালদের জমি দখল করে, তাদের বসবাড়িতে পুলিশ দিয়ে আগুন লাগিয়ে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া গর্বিতভাবে বলেছিলেন, ‘চিনিকলের জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে’। রাজশাহী দিনাজপুর রংপুর বগুড়া জেলার সাঁওতালদের বিপুল সংখ্যা কি করে কিভাবে হারিয়ে গেছে কেউ জানে না? তারা কোথায় গেছে? তাদের বংশপরম্পরায় যে জমিতে বসবাস সেগুলোতে এখন সরকারী চিনিকল না হয় অন্য কোন কারখানা খোলা হয়েছে। হয়ত আগামীদিনের কোন ‘মুসলিম ঐতিহাসিক’ লিখবেন, চাকমা মারমা সাঁওতাল গাড়ো ওরা ইসলামের সুমহান ভ্রাতৃত্ববোধে মুগ্ধ হয়ে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলো! মুসলিম দেশের জমি আত্মসাত তাই কোনদিন ইতিহাসে স্থান পায় না। কেউ কোথাও জানাতেও পারে না। শুধু ইজরাইল বসতি বাড়ালে আন্তর্জাতিক নিউজ হবে। কারণ হাউকাউ। তাদের হয়ে চমেস্কি হাউকাউ করবে। অরুন্ধতি হাউকাউ করবে। অরুন্ধতি কি বেলুচদের নিয়ে পাকিস্তানকে গুন্ডারাষ্ট্র বলে? বলে না। তেমনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জমি দখলের ইতিহাস নিয়ে কেউ লেখে? এখন যারা মানবতার গান গাইছেন তারা কখনো সে গান গাইছেন? বগুড়ায় ১৯৫৫-৫৬ সালে সাঁওতাল, খ্রিস্টান ও হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে ১ হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে তৎকালীন পাকিস্তান শিল্প মন্ত্রণালয় রংপুর চিনিকলের ইক্ষু খামারের জন্য। এই উচ্ছেদ, এই ভূমিহীন করার ধারাবাহিকতা চলছে বাংলাদেশ পর্যন্ত। সেই বাংলাদেশীরাই এখন সেভ গাজা, ইজরাইলী দখলদারী নিপাত যাক বলে বলে গলা ভেঙ্গে ফেলছে। আমি বলছি না যে নিজেদের দেশের অন্যায়কে অন্যায় মনে না করলে, প্রতিবাদ না করলে ইজরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যাবে না। আপনাদের সম্পূর্ণ অধিকার আছে মুসলমানদের পক্ষে একতরফা কথা বলার। তেমনি আমরাও অধিকার আছে ভন্ডদের দ্বিচারিতা দেখিয়ে দেয়ার…
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix