মাদ্রাসায় নির্মমভাবে শিশু পেটানো

এই হচ্ছে দেশের অবস্থা। মাদ্রাসায় নির্মমভাবে পেটানো শিশুর বাবা-মা মাদ্রাসার হুজুরের উপর থেকে সব অভিযোগ তুলে নিয়েছে। সমাজে হুজুরদের হাতে মার খেলে শরীরের সেই অংশ জান্নাতে যায়, আলেম হতে গেলে ওস্তাদের মারধোর তো সৌভাগ্যের কথা। যদি বাংলা মিডিয়ামে এই ঘটনা ঘটত তাহলে ঠিকই মামলা হতো। কারণ মাস্টার আর ‘হুজুর’ এক কথা নয়! কিন্তু শিশুরা তো রাষ্ট্রের সম্পদ। তাহলে বাবা মার মামলা করতে না চাইলেও পুলিশ কেন হুজুরকে ছেড়ে দিলো?

নামাজ পড়তে বাধ্য করার জন্য ছোট ছোট বাচ্চাদের মারধোর করার নির্দেশ দেয়া আছে ইসলামে। হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও। তাদের বয়স ১০ বছর হওয়ার পর (প্রয়োজনে) নামাজের জন্য প্রহার করো এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)। মাদ্রাসায় এরকম দশ বছরের বাচ্চাদের বেধম পেটানো হয় ভোরের ফজরের নামাজ পড়তে না আসলে। আপনারা খালি হুজুরদের দোষ ধরেন, দেখেন না তাদের হাত পা কুরআন হাদিসে বাঁধা পড়ে আছে! ইসলামের নবীর পরই যে সাহাবীকে বেশি মর্যাদা দেয়া হয় সেই ওমর নিজের ছেলেকে মেরেই ফেলেছেন নিজ হাতে! বলা হয়ে থাকে, ‘মদ্যপান ও ব্যাভিচার করার অপরাধে তাঁর নিজ পুত্র আবু শাহমাকে ১০০ টি দোররা বা বেত্রাঘাত করেন এবং সেখানেই সাথে সাথে তাঁর পুত্র মারা যায়’। কাজেই মাদ্রাসাগুলোতে শিশু নির্যাতন, নিপীড়ন এমনি এমনি আসেনি। যারা বলেন মাদ্রাসায় আধুনিক শিক্ষা, হুজুরদের ট্রেনিং দিয়ে আধুনিক পাঠদানের কৌশল শেখানো দরকার তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন!

চাক্ষুস ভিডিও থাকার পরও পুলিশ কি করে বলে প্রমাণ সাক্ষি নেই? ভিডিওটা দেখার পাশাপাশি বাংলা ট্রিউবিনের নিজটাও নিচে পড়ে নিবেন।

বাংলা ট্রিবিউন লিখেছে: “চট্টগ্রামে শিশুছাত্রকে বেধড়ক মারধর করা মাদ্রাসা শিক্ষক ইয়াহিয়ার শাস্তি চান না শিশুটির মা-বাবা। ওই শিক্ষককে আটকের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তারা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা না নিতে লিখিত অনুরোধ করেন। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মারকাযুল কোরআন ইসলামিক অ্যাকাডেমিতে এই ঘটনায় ঘটে। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়া হেফজ বিভাগের ছাত্র মো. ইয়াসিন ফরহাদকে বেদড়ক পিটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ইয়াহিয়াকে আটক করা হলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। শিশুটির মা-বাবা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনও ব্যবস্থা নিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে আটক করার পরপরই নির্যাতিত শিশুটির মা-বাবা আমার কাছে এসে কান্নাকাটি শুরু করেন। দুইজন আমার অফিসে এসে ওই শিক্ষককে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। তারা ওই শিক্ষককে ক্ষমা করে দিয়েছেন জানিয়ে হাফেজ ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করবেন না বলে জানান। আমি তাদের অনেক বোঝানোর পরও তারা মামলা করতে রাজি হননি। উল্টো তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে আমাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছেন। পরে আমরা ওই শিক্ষককে ছেড়ে দিয়েছি।’
শিশুটি মা-বাবা উল্লেখ করেন, ‘মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় ফরহাদকে দেখতে মাদ্রাসায় যাই। দেখা করে চলে আসার সময় ফরহাদ আমাদের পেছনে পেছনে ছুটে আসে। এরপর হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়া এসে ফরহাদকে ধরে নিয়ে যায়। রুমে নিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। এই ঘটনায় আমরা দুই জন খুবই মর্মাহত। এরপরও আমরা আমাদের সন্তানের শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করবো না। তাই আটককৃত শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ করছি।’
কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন না এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুটির বাবা জয়নাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনও স্বার্থ থেকে তিনি আমার সন্তানকে মারধর করেননি। যিনি আমরা সন্তানকে পড়িয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত মনে হয়নি। তাই তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেছি।’
নির্যাতিত শিশুটির পরিবার না চাইলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হলে সাক্ষী প্রয়োজন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না। এ কারণে ওই শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix