বাংলাদেশের ‘মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম’ ও সাংবাদিকতা বলতে আর কিছু বাকী আছে?

৩ মে মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে কয়েকজন সাংবাদিকের পোস্ট দেখলাম। তাদের মধ্যে একজন রাহুল রাহা। তিনি নঈম নিজামের পক্ষ নিয়ে বলেছেন ‘মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম’ নঈম নিজামের পাশে আছে থাকবে’।

যে দেশের সাংবাদিকতা কর্পোরেট গ্রুপের বেতনভুক্ত চাকরবাকর সে দেশে ‘মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম’ বলতে কিছু থাকে না। ইংরেজ পরাধীন ভারতবর্ষেও ‘মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম’ ছিলো যেখানে ইংরেজ দু:শাসন, জুলুম, অত্যাচারের বিপরীতে গণমানুষের হয়ে কথা বলত। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি কল্পনা করাও পাপ। শুধু সরকারের চাপ নয়, মালিক পক্ষের সেবা করাই এখানে সাংবাদিকতা। সাগর-রুনি হত্যার পর তার প্রতিবাদে জড়ো হওয়া সাংবাদিকদের উপর এটিএন বাংলার এক গ্রুপ সাংবাদিক হামলা করেছিলো না? এখন বসুন্ধরা গ্রুপের লম্পট মালিকের হয়ে লড়ছে পুরো দেশে কথিত ‘মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম’ গুলো!

নঈম নিজাম বাংলাদেশের টিভি ও প্রিন্ট সংবাদ মাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন সেটি ভিন্ন বিষয়। প্রধান বিষয় হচ্ছে একটি ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনাকে পুরো দেশের মিডিয়া ভ্যানিস করে দিতে চেয়েছে! ভিকটিমকেও ব্লেইম দিচ্ছে কথিত সেই ‘মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম’! এই সাংবাদিকতার চেয়ে রাস্তায় ফল বেচাও সন্মানের! আপনি কি সারা পৃথিবী ঘুরে গণমাধ্যমের এরকম একটি চরিত্র দেখাতে পারবেন? সারা পৃথিবীতেই গণমাধ্যম বাঁধার সম্মুখিন হয়। সরকারী চাপ সব দেশেই ঘটে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে তুলনা আমি দিবো না, সেটা বেশি অসম হয়ে যাবে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের তুলনা করুন, সেখানকার গণমাধ্যমের ভূমিকার তুলনায় বাংলাদেশ গণমাধ্যম কি করছে?

রাহুল রাহার পোস্ট সাংবাদিক জ.ই মামুনের কমেন্টের স্ক্রেণশর্টটা দেখুন। তিনি পুঁজিবাদীদের উপর সব দোষ চাপিয়ে সাংবাদিকতাকে অসহায়, স্রেফ ক্রীড়নক বলছেন। একেবারেই দুর্বল যুক্তি! তাহলে উনি এসব জেনেও কেন এই লাইনে এলেন? এখন যারা সাংবাদিকতায় আসতে লেখাপড়া করছে তাদেরকে কি তিনি এই গ্লাণিকর পেশার বিষয়ে সতর্ক করেছেন? পৃথিবীতে মিডিয়া মালিকদের কেউ পুঁজিহীন সর্বহারা হয়? কিন্তু পৃথিবীতে দেখাতে পারবেন টাকার জোরে নিজের টিভিতে লাইভ গান গেয়ে লোক হাসিয়েছে কোন শিল্পপতি? এটা বাংলাদেশে ঘটেছে কারণ এখানে লুম্পেন একটা ধনী শ্রেণী গড়ে উঠেছে। সেই লুম্পেনদের খসিয়ে তেল দিয়ে চামচাগিরি করে কি করে আখের গোছানো যায় এদেশে সেই সাংবাদিকতা গড়ে উঠেছে ৯০-এর স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনের পর পর। কাজেই আজকের নঈম নিজাম ও ইমদাদুল হক মিলনের সম্পাদনা যে গণবিরোধী চেহারা ফুটে উঠেছে সেটার পিছনে সাংবাদিকদের বড় একটি দায় রয়েছে। তারা নষ্ট হয়ে গেছেন। তারা মালিকদের ‘জ্বি হুজুর’ নিজে থেকে বলা শুরু করেছিলেন বেশি ফয়দা লুটে নিতে। এদেশে গণমাধ্যম কখনোই তাই ব্যবসা হয়ে উঠেনি। গণমাধ্যম হচ্ছে লস প্রজেক্ট। এটা লুম্পেন শিল্পপতিদের হাজারটা বাটপারি চিটারি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে, প্রভাব ধরে রাখতে, নিজের হয়ে কথা বলাতে প্রতি বছর লস দিয়ে পেলেপুষে রাখে। আনন্দবাজার পাবলিকেশনের মালিক অভিক সরকার বলেছিলেন পত্রিকা তাদের ব্যবসা। ব্যবসা বলেই এখানে পেশাদারিত্ব গড়ে উঠে। ব্যবসার সঙ্গে কোন খাতির বা আপোষ নয়। যখন গণমাধ্যম ব্যবসা না হবে তখন সেখানে মালিক নিজে গানের অনুষ্ঠান করবে। এটা থেকে তো তার পয়সা আসবে না। এটা হচ্ছে তার রঙ্গ তামাশা আর পেশি শক্তির দোকান। তাই ভবিষ্যতে মালিক পক্ষের ছেলের বউভাত লাইভ দেখানো শুরু হবে। সেই লাইভে টিকে থাকতে হলে এইসব তারকা সাংবাদিকদের কমেন্ট্রি করতে হবে! এরকম কিছু কি পৃথিবীর বড় বড় মিডিয়া পরিবারগুলোও পারবে তাদের মালিকাধীন মিডিয়াতে করতে? পারবে না কারণ ওগুলো তাদের ব্যবসা। বাংলাদেশের গুলো ধান্দার দোকান! এ কারণেই দেশী মিডিয়া ছেড়ে এখনো এদেশের মানুষ বিবিসি, ডয়চে ভেলে, আল জাজিরা, সিএনএন এনডিটিভি ঘুরে দেশের নিউজ ক্রসচেক করে নেয়! এরচেয়ে লজ্জ্বার আর কি আছে?

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix