ফুরফুরা শরীফের শিন্নি কে খায়? ‘অসাম্প্রদায়িক’ মুসলিমবাদ?

প্রথম আলো পত্রিকার আলতাফ পারভেজ ফুরফুরা শরীফের আব্বাস সিদ্দিকীকে নিয়ে যে কলামটি লিখেছেন, এজন্য লিখেছেন কারণ তিনি মুসলমান বলে? ভারতে নরেন্দ্র মোদী আর হিন্দুত্ববাদ নিয়ে আলতাফ মাহমুদদের যে পরিমাণ জ্বলুনি সেটি অসাম্প্রদায়িক অবস্থান থেকে নয়, ভারতে মুসলিমবাদ নাজুক হয়ে পড়বে সে ভয়ে? আব্বাস সিদ্দিকী ফের আরেকটি ‘মুসলিম লীগ’ জন্ম দিতে যাচ্ছেন যার পরিণামে পশ্চিমবঙ্গ ধর্মের বিভেদে আবার ভাগ হবে সেই বাসনায়? আলতাফ পারভেজ মুসলিমবাদী হতেই পারেন। আমার মতে কেউ হিন্দুত্ববাদী যেমন হতে পারে তেমনি কেউ মুসলিমবাদীও হতে পারে। এটা তাদের ব্যক্তিগত চয়েজ। কিন্তু অসাম্প্রদায়িকতার ভান ধরে একটা ইসলামিক মৌলবাদী কাঠমোল্লাকে হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে ‘সেক্যুলার বহুজনবাদী’ হিসেবে কেন দেখাতে চেষ্টা করবেন? অন্তত বিষয়টি যদি সত্য হতো কোন আপত্তি ছিলো না।

আলতাফ পারভেজরা ইদানিং যে বাংলা ভাষায় লেখা শুরু করছেন ‘বাঙালী মুসলমানদের নিজস্ব ভাষা’ হিসেবে সেসব অর্থ বুঝতে হলে আপনাকে মাদ্রাসায় গিয়ে ভর্তি হতে হবে! যেমন লেখার একটি পরিচ্ছদের শিরোনাম যে কওমে আছে অমুসলমানরাও: আব্বাসের বহুজনবাদ! কওম অর্থ কি? কওম’ আরবি শব্দ। এর অর্থ গোষ্ঠী, গোত্র, জাতি, সম্প্রদায় ও জনগণ। বুঝতে পারছেন তো এবার, আলতাফ পারভেজ, ফারুক ওয়াসিস প্রথম আলোরা মুসলমান হতে চাইবেন কিন্তু ভারত হিন্দু হতে পারবে না! না, ভারত হিন্দুত্ববাদী হয়ে উঠুক সেটা তো চাই না। কিন্তু মুসলিম লীগের মানসপুত্ররা যখন হিন্দুত্ববাদের সামালোচনা শুরু করে তখন বিশ্রী লাগে না?

আলতাফ পারভেজ উক্ত শিরোনামে লিখেছেন,

“আব্বাস সিদ্দিকির  ‘কওম’ কেবল মুসলমানদের নিয়ে নয়। জলসায় তিনি সবার  ‘ভাইজান’ হয়ে যান। বাঙালিত্ব ও মুসলমান পরিচয়ের মধ্যে তিনি ও তাঁর মুরিদেরা ব্যবধান দেখেন না। হুগলি ও চারপাশের এই মুসলমান সমাজে ইসলামের সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির সামান্যতম টানাপোড়েন নেই। তাঁদের কাফেলা কেবল পৌঁছাতে চায় সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার এক দেশে”।

এরচেয়ে নির্জ্বলা মিথ্যাচার কি হতে পারে! মোবারক আলী রহমানীর লেখা ‘ফুরফুরা শরীফের ইতিবৃত্ত’ নামে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে বের হওয়া বইতে এই পীর বংশের বিভিন্ন পীর পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম সমাজে সংস্কার করেছেন দাবী করে বর্ণনা করেছে, “তাড়ী, মদ, গাঁজা, ভাং, আফিম, সুদ-ঘুষ, গান বাজনা, বেনামাজ, বে-পর্দা ইত্যাদিতে সমাজ ছেয়ে গিয়েছিল। কবরপূজা, কবর চুম্বন, হাজত-মানত করা, বিনা প্রয়োজনে কবরে বাতি জ্বালানো, কাওয়ালীর মজলিস করা, মহরম মাসে তাজিযা বের করা, ইমাম হোছাইনের দরগাহ তৈরী…করাই ছিল তাদের কাছে ধর্মানুষ্ঠান। মুসলমান পুরুষ ও মহিলারা দল বেঁধে হিন্দুদের পূজায় শরীক হতো, পূঁজায় চাঁদা প্রদান ছাড়াও মুসলমানরা লক্ষ্মী পূজা, স্বরস্বতী পূজা, পদ্মাদেবীর পূজা, ওলাউটা দেবীর পূজা, শীতলাদেবীর পূজা করতেও মোটেই ইতস্তত করত না। মুসলামনী পোষাক ছেড়ে সার্ট, প্যান্ট, কোট, টাই, ধূতি ইত্যাদি বিজাতীয় পোষাক পরিধান করা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি মুসলমানদের হিন্দুয়ানী নাম রাখা হ’ত এবং নামের পূর্বে শ্রীযুক্ত হত। বিয়েতে পণ প্রথা, হলুদ বাটা, গায়ে হলুদ, ফুরুল সাজান, পাত্র-পাত্রী নামে দিয়ার ভাসান ইত্যাদি কঠিন গুনাহর কাজ শরিয়তী ইসলাম আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। আব্বাস সিদ্দিকীর দাদা পীর আবু বকর সিদ্দিকি (যাকে আদর করে আলতাফ পারভেজ ‘দাদাজান’ বলেছেন)  পিতার ন্যায় তিনিও শিরক, বিদআত ও কুফরীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন বলে বইতে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ প্রথম আলোর আলতাফ পারভেজ বলছেন “বাঙালিত্ব ও মুসলমান পরিচয়ের মধ্যে তিনি ও তাঁর মুরিদেরা ব্যবধান দেখেন না। হুগলি ও চারপাশের এই মুসলমান সমাজে ইসলামের সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির সামান্যতম টানাপোড়েন নেই”! যারা বাংলায় নাম রাখাকে শিরক হিন্দুয়ানী মনে করে তাদের সঙ্গে বাঙালী সংস্কৃতির টানাপোড়েন নেই? কি বলবেন!

পড়ুন ফুরফুরা শরীফের জিহাদের ইতিহাস: পশ্চিমবঙ্গের ফুরফুরা পীরের ইতিকাহিনী

আলতাফ পারভেজ এরচেয়েও হাসির কথা বলেছেন পরের প্যারাতে। তিনি লিখেছেন,

“ফুরফুরার ‘দাদা হুজুর’ আবু বকর সিদ্দিকির পাঁচ পুত্রের কেউ এখন জীবিত নেই। নাতিরাই খানদানের তরফ থেকে ইসলামের সেবা করছে। বিশাল সেই বংশেরই একজন ‘পীরজাদা’ আব্বাস সিদ্দিকি। তাঁর রাজনৈতিক বিশেষত্বের অনেকখানি ইতিমধ্যে বাংলাভাষীদের জানা হয়ে গেছে। আব্বাসের বলার ভঙ্গি, শব্দচয়ন, বিষয়বস্তু এলিট রাজনীতিবিদদের মতো নয়। চারপাশের ‘হুজুর’দের চিরচেনা ওয়াজেও লিপ্ত হন না তিনি। বরং প্রতিদিনকার বাস্তব জীবনের বিষয় নিয়েই আলাপ জুড়েন। জগৎ-জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে মুরিদদের হেদায়েত তাঁর লক্ষ্য থাকে না। ‘ইহুদি-নাসারা’দের নিয়েও মত্ত হন না তিনি। নারী বা অপর ধর্ম নিয়ে তাঁর ওয়াজে দীর্ঘ বিবরণ অতি বিরল।“

রিয়েলি নারী বা অপর ধর্ম নিয়ে আব্বাস সিদ্দিকী কিছু বলেন না? অথচ এই ধর্মান্ধ রাক্ষসটি কোলকাতার সাংসদ ও অভিনেত্রী নুসরাত সম্পর্কে বলেছিলেন,

“যারা দেহ দেখিয়ে পয়সা রোজগার করে , তোরাও বোকা তাদের এমপি বানিয়েছিস। যারা দেহ বিক্রি করে তারা দেশ বিক্রি করবে না তার কি মানে আছে? মন্দিরে যাবে, মসজিদে যাবে আমাদের ইচ্ছা, তোর বাপের সম্পত্তি নাকি? তোর ইচ্ছা হয় তুই ইসলাম থেকে বেরিয়ে যা। আমরা কোনো আপত্তি করবো না”। এরকম জঘন্ন কথা যে লোক একজন অভিনেত্রী সম্পর্কে বলতে পারে তাকে মহান করে তোলার চেষ্টা পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম লীগের নবজন্মের খোয়াব দেখা একজন মুসলিমবাদীর পক্ষেই সম্ভব। নরেন্দ্র মোদীর পার্টিতে তো নারী নেতৃত্ব হারাম নয়। কিন্তু ইসলামের এমন একটি তড়িকা দেখান যেখানে নারীদের নেতৃত্বকে মানা হয়। আলতাফ পারভেজকে চ্যালেঞ্জ দিলাম ফুরফুরা শরীফে নারীদের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেয়া, পুরুষের উর্ধতন কর্মকর্তা হওয়াকে শরীয়তি মনে করে তেমন কোন প্রমাণ দেখাবেন।

নুসরাতকে নিয়ে আব্বাস সিদ্দিকীর ভিডিও:

মিথ্যাচারের ষোলকলা পূর্ণ হলো তখন যখন আলতাফ পারভেজ দাবী করলেন,

আব্বাসের বয়ান চলমান ভারত নিয়ে। সেখানে দরিদ্ররা কীভাবে রুটি-রুজির সংগ্রামে আত্মসম্মান নিয়ে নাগরিক অধিকারসহ বাঁচতে পারে সেই চিন্তার চর্চায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে তাঁর জলসা। তিনি মুরিদদের আফগানিস্তানে যেতে বলেন না। ভারতকে আফগানিস্তান বানানোও তাঁর প্রকল্প নয়। তিনি প্রজাতন্ত্রই চাইছেন, যেখানে মজলুমের সামাজিক ন্যায়বিচার থাকবে। ভারত তার কাছে দারুল আমান। ফুরফুরার দাদা হুজুর হজরত আবু বকর সিদ্দিকিও এটাই বলতেন।“

অথচ এই ফুরফুরা শরীফে যুদ্ধপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির জন্য কোলকাতায় মিছিল করেছিলো! এদের সঙ্গে বাংলাদেশের সমস্ত কট্টরপন্থি ইসলামিক মৌলবাদীদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। এরা নাকি ভারতকে আফগানিস্থান বানাতে চান না! তাহলে বাংলাদেশের হেফাজত ইসলামের সঙ্গে এত গভীর প্রেম কেন? এই ফুরফুরা শরীফের পীর আবু বকর সিদ্দিকী পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে পাকিস্তানের সমর্থন ছিলো এই বংশের। বাংলাদেশের শাহবাগ আন্দোলনের সময় যারা যুদ্ধপরাধীদের পক্ষ নিয়েছিলো তারা ভারতকে আফগান বানানোর খোয়াব দেখে না? এইসব কাদের বিশ্বাস করাতে চান আলতাফ পারভেজ?

আলতাফ পারভেজকে অসত মনে হয়েছে যখন “যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের পুনর্জন্ম” শিরোনামে আরেকটি অনুচ্ছেদে লিখেছেন,

আব্বাসের আদর্শ, বক্তব্য ও কৌশল বাংলার আরেক প্রয়াত রাজনীতিবিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি বরিশালের যোগেন্দ্র নাথ মণ্ডল। আব্বাস তাঁর রাজনীতি এগিয়ে নিতে কংগ্রেস ও বামদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। যোগেন ভরসা করেছিলেন মুসলিম লিগকে। যোগেন মনে করতেন, নমশূদ্র চাষির জমির আল রয়েছে যে মুসলমান চাষির সঙ্গে তাঁর সঙ্গেই রাজনৈতিক মৈত্রী করতে হবে। এ রকম মৈত্রীই কেবল বাংলায় শান্তি ও ঐক্যের রক্ষাকবচ। আর আব্বাস মনে করেন, বাংলায় সমন্বয়ের রাজনীতি দরকার। কারণ, মুসলমান-হিন্দু-শিখ-দলিত হলো ‘উপমহাদেশ’ নামের একই বৃক্ষের শিকড়”।

এখানে কৌশলে ‘মুসলিম লীগকে’ আলতাফ পারভেজ ধুয়েমুছে সাফ করে বুকে টেনে নিলেন। মানে দ্বিজাতিতত্ত্বকে মেনেই নিয়েছেন। এতে আমার কোন আপত্তি নেই। আগেই বলেছি কেউ যেমন হিন্দুত্ববাদী হবার স্বাধীনতা রাখে তেমনি যে কেউ ‘মুসলিমবাদী’ হতে পারে। কিন্তু যোগেন মন্ডল মুসলিম লীগ ও আলতাফ পারভেজদের মত প্যান্ট শার্ট পড়া শিক্ষিত মুসলমানদের বিশ্বাস করে কি পরিণতি লাভ করেছিলেন চালাকি করে সেটা কেন উনি চেপে গেলেন? এখন আব্বাস সিদ্দিকী যেভাবে তার ‘সেক্যুলার পার্টি’ দিয়ে ভারতের দলিত হিন্দুদের দলে ডাকছেন যোগেন মন্ডলকেও সেভাবে সরওয়ার্দি জিন্না ডেকে দলে নিয়েছিলো। এমনকি মন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়েছিলো। তারপর যথা সময়ে কচুকাটা করা হয়েছিলো হিন্দু তফসিলি সম্প্রদায়কে। তাদের নেতা যোগেন মন্ডল প্রাণ হাতে নিয়ে কোলকাতায় পালিয়ে ‘হিন্দুদের আশ্রয়ে’ বাকী জীবন কাটানোর আগে বলে যান, “আমার পক্ষে এটা বলা অন্যায্য নয় যে পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ‘নিজভূমে পরবাসী’ করা হয়েছে, আর এটাই এখন হিন্দুদের কাছে পাকিস্তানের পূর্ণাঙ্গ চিত্র। হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করাটাই এদের একমাত্র অপরাধ।…সুদীর্ঘ ও উদ্বেগময় সংগ্রামের পর শেষ পর্যন্ত আমাকে একথাই বলতে হচ্ছে যে পাকিস্তান আর হিন্দুদের বাসযোগ্য নয়। তাঁদের ভবিষ্যতে প্রাণনাশ ও ধর্মান্তরকরণের কালো ছায়া ঘনিয়ে আসছে। অধিকাংশ উচ্চবর্ণের হিন্দু ও রাজনৈতিক সচেতন তফসিলি জাতির লোকেরা পূর্ববঙ্গ ছেড়ে চলে গেছে। যে সমস্ত হিন্দুরা এই অভিশপ্ত দেশে অর্থাৎ পাকিস্তানে থেকে যাবে, আমার দৃঢ বিশ্বাস ধীরে ধীরে এবং সুপরিকল্পিত ভাবে তাদের মুসলমানে পরিণত করা হবে বা নিশ্চিহ্ন করা হবে’ (মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ, জগদীশ মণ্ডল, ১ম খন্ড)।

যোগেন মন্ডলকে নিয়ে লেখা: যোগেন মন্ডলের মোহভঙ্গ এবং পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

এই হচ্ছে হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে আলতাফ পারভেজদের মত বাংলাদেশী সাংবাদিক গবেষকদের অবস্থান। নিজেরা মুসলিমবাদী হবেন তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে খারাপ জিনিস ‘হিন্দুত্ববাদ’! নিজেদের পরিচয় দিবেন ‘বাঙালী মুসলমান’ কিন্তু কেউ নিজেকে হিন্দু বললে ওমনি তাকে আরএসএস বলে দাগিয়ে দিবে! ভারতে হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে সেক্যুলার প্রগতিশীলদের লড়াইকে বাংলাদেশী এইসব মুসলিম লীগের আলখেল্লা থেকে বেরিয়ে আসা মুসলিমবাদীদের হিন্দুত্ববাদের বিরোধীতার ঘাপলা কোথায় তারপরও যদি কেউ না বুঝেন তাহলে এই লেখার পরিশ্রম পুরোই বৃথা!

#সুষুপ্ত_পাঠক

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix