ফিলিস্তিনি ইজরাইল বিবাদ: ইহুদী আগ্রাসণ নাকি ইসলামের সাম্রাজ্যবাদ?

আল আকসা মসজিদ ইজরাইয়েলের উচিত স্থায়ীভাবেই বন্ধ করে দেয়া। ‘মুসল্লি’ কি জিনিস, কি করতে পারে তারা সেটা মোটামুটি ঐতিহাসিক। ডাইরেক্ট এ্যাকশ ডে কোলকাতায় জুম্মার নামাজ শেষেই ‘মুসল্লি’ ব্যানারে প্রথম এ্যাকশন শুরু করে। ঢাকা কিংবা ইসলামাবাদ, কিংবা ইন্ডিয়ার কাশ্মির ‘মুসল্লিরা’ একটা শহরকে তছনছ করে ফেলতে পারে। কাজেই গাজায় এখন ইজরায়েল যে রকেটগুলো মারছে সেগেুলো ইটের জবাবে পাটকেল। হিযবুল্লার মারা রকেটগুলোর পর ইজরাইল যখন মারছে তখনই নিউজ হচ্ছে। আল আকসায় নামাজ পড়ার সুযোগ নিয়ে ‘মুসল্লিদের’ মধ্যে উত্তেজনা কেন বিভিন্ন দিবসে চেগিয়ে উঠে? ইজরাইয়েল দখলদার? ‘ইজরায়েল’ মানি না? এইসব করে জীবনে ফিলিস্তিনিরা নিজেরা জন্য কিছু পাবে? ফিলিস্তিনিরা এখন কাদের খপ্পরে পড়েছে? আফগানিস্থানে যারা এই সেদিন মেয়ে বাচ্চাদের স্কুলে বোমা হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনিদের অভিভাবকীত্ব এখন সেই একই চেতনাধারী অন্য কারোর উপর। তারা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন দেশের জন্য লড়াই করে না। তারা বাইতুল মোক্কাদেশ দখল করে ইমাম মাহিদির দলের কাছে হস্তান্তর করার স্বপ্নে বিভোর।

 

ইহুদীদের পূণ্যভূমি, তাদের তীর্থস্থান দখল করেছিলো ইসলাম। শুরুতে বাইতুল মোকাদ্দেশ ছিলো মুসলমানদের কিবলা। সে বরাবর তারা নামাজ পড়ত। পরে মক্কায় কিবলা ঘুরিয়ে নিলেও বাইতুল মোকাদ্দেশ দখল করার অভিপ্রায় ইসলামের চিরস্থায়ী ধর্মীয় বিদ্বেষ হিংসার জন্ম দেয়। ভারতে গজওয়াতুল হিন্দ ও জেরুজালেম দখল করার জন্য ইমাম মাহদির দল সক্ষম হবে এরকম ধর্মীয় বিশ্বাসই এখন এই দুই অঞ্চলের ইসলামী চরমপন্থার সশস্ত্র লক্ষ্য। প্রতিটি তরুণ ফিলিস্তিনি মুসলিমদের মনে এখন এইরকম জিহাদী লক্ষ্য। বস্তুত স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বদলে এখন সেটা ধর্মীয় আন্দোলনে হাইজ্যাক হয়ে গেছে। তাই ইজরাইল যদি আগামীকালই ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন দেশ ফিরিয়ে দেয় তবু ইজরাইলের উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদ থেমে যাবে না। আল আকসায় নামাজ পড়ার সুযোগ নিয়ে বোমাবাজী চালাবে। ইহুদীদের তীর্থে নিজেদের অধিকারের দাবী জানাবে। ফিলিস্তিনি মসজিদগুলোর মাইকগুলো সব ইজরাইল অভিমুখে তাক করা যেখান থেকে উচ্চস্বরে আজান দেয়া হয়। আগুন ঘুড়ি উড়িয়ে ইজরাইলের ক্ষেতের ফসল পুড়িয়ে ফেলে। এমন একটি মহাদেশ দেখানো যাবে না যেখানে মুসলিমরা নিজেদের সংথ্যা দিয়ে বিভক্ত হয়ে যায়নি। তুর্কিরা আর্মেনিয়া খিস্টানদের সঙ্গে থাকতে পারল না কেন? আর্মেনিয়াদের কচুকাটা করা গণহত্যার কথা এখানে না-ই বা তুললাম। আফগানিস্থান দেশটি তো বৌদ্ধদের ছিলো। সেখানে একটিও বৌদ্ধ নেই। একটি বৌদ্ধ মন্দির নেই। কেন? ইরান ছিলো অগ্নি উপাসকদের দেশ। সেখানে কি করে সকলেই মুসলমান হয়ে গেলো? ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানরা বিভক্ত হয়ে গেছে পাকিস্তান দিয়ে। কংগ্রসের হিন্দু নেতাদের দোষ দেয়ার আগে মুসলিমদের সশস্ত্র জাতি চেতনার যে দীর্ঘ প্রচেষ্টা সেটি কি মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবে কেউ? নেহুরু একটি সেক্যুলার ভারত রাষ্ট্র গঠন করতে পারলে জিন্না কেন একটি ‘মুসলিম ইসলামিক রাষ্ট্র’ গঠন করল?

 

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই বলেছেন, ”এই লড়াই (গাজায় সাম্প্রতিক উত্তেজনা) হলো দমনের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই। ইসরায়েল ফিলিস্তিনকে পিছন থেকে ছুরি মারছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা কর্তব্য।” এই ইরানই আবার সৌদির বিরুদ্ধে সম্ভব হলে পারমানবিক বোমা ফেলবে! সৌদি যেমন মুসলিম দেশ ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়ে মসজিদ হাসপাতাল স্কুল মাদ্রাসা কিছুই বাদ দেয়নি। লক্ষ লক্ষ শিশুদের অনাহারে তারা মেরে ফেলেছে। ইরান এখন যে ফিলিস্তিনিদের জন্য গলা চড়াও করেছে তাদেরকেই ‘কাফের’ মনে করে ফিলিস্তিনি জিহাদীরা। ইজরাইল যদি তর্কের খাতিরে মনে করেন তাদের কোন অস্তিত্ব নেই তবে মনে করবেন এই অঞ্চলগুলোতে শিয়া সুন্নিতে লাল হয়ে যাবে। এই রক্তের ইতিহাস দেড় হাজার বছরের। এইসব অঞ্চলের ইহুদী খিস্টান ইয়াজিদিদের কচুকাটা করে, উচ্ছেদ করে বিলুপ্ত করেছে ইসলামী সাম্রাজ্যবাদ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix