প্রতিবাদের সুষম বন্টন কি পৃথিবীতে সম্ভব?

চীন তো তিব্বতকে দখল করে রেখেছে। দলাই লামা ভারতে আশ্রিত থেকে রোজ সেকথা কি বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে না? তবু তিব্বত নিয়ে নোয়াম চমেস্কি কাঁদে না কেন? তিব্বতীদের কান্নার কোন চিত্র কেউ দেখতে পায়? কারণ চীন মিডিয়া ইন্টারনেট তাদের জেলখানায় পুড়ে রেখেছে। বেলুচদের ঘরে ঘরে ঢুকে পাকিস্তানী সৈন্যদের তল্লাসির নামে ধর্ষণ, বেলুচ তরুণদের পাকিস্তানী সৈন্যদের দিকে ঢিল ছুড়ে মারার দৃশ্য পৃথিবীর কোন ফটোগ্রাফার তুলে নিয়ে বেস্ট পিকচার এ্যাওয়ার্ড জিততে পারবে না। কারণ সেটা বিশ্বের দেড়শো কোটি মুসলমানদের বাজার হারাবে। ৫৭টা “মুসলিম দেশের” সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হবে…।

একেই বলে অর্গানিজেশন! এটা চাইলেই মুসলিম ব্যতিত আর কেউ পারবে না। ইহুদী ও হিন্দুরা ধর্মান্তরিতে বিশ্বাস করে না। যে কারণে তাদের জাতি বোধ নেই। “সম্প্রদায়ের উপনিবেশ” মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রচলিত। যেহেতু ইউরোপে রেঁনেসা এসেছিলো তাই খ্রিস্টানরা রাষ্ট্র থেকে খিস্টান ধর্ম যেমন খেদিয়েছে, তেমনি নিজেদের মনের ভেতরের ধর্ম চেতনাও বিলুপ্ত করেছে। তাই শুধুমাত্র মুসলমানই ধর্মের সম্প্রসারণে বিশ্বাস করে। তারা মনে করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র স্বীকৃতি পেলে আরেকটি “মুসলিম দেশ” বৃদ্ধি পেলো। একই কারণে পৃথিবীতে কোথাও একটি “ইহুদী রাষ্ট্র” জন্ম নিলে সে অস্থির হতে থাকে। কোথাও “হিন্দু রাষ্ট্র” হতে যাচ্ছে শুনলে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে। কিন্তু সে নিজে ৫৭টি সন্তানের জনক হয়ে বসে আছে!

ফ্রান্স প্রেসিডেন্টের ছবির উপর যেভাবে ‘মুসলিম বিশ্ব’ জুতা দিয়ে পিটিয়েছে সেরকম ধর্মীয় ‘উম্মাহ’ ইহুদী কিংবা হিন্দুদের দিয়ে কখনো হবে না। এমনকি এ যুগে খিস্টানদের দিয়েও সেটা হবে না। কিন্তু মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া হোক সে কথিত প্রগতিশীল মুসলমান, সেও “মুসলিম অর্গানিজেশনের” বাইরে নয়। নইলে দেখুন হিপোক্রেসি তো থামছেই না! সুশীল মুসলমান বলছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্যে যারা ধর্মকে টেনে আনে তারা খুব ইয়ে… মানে ইসলাম বিদ্বেষী আর কি। সেই একই অনুষ্ঠানেই বক্তারা ‘মুসলিম বিশ্বের’ নিরবতায় ব্যথিত!

জো বাইডেন ঈদ উপলক্ষ্যে পার্টি দিয়েছিলেন। সেই পার্টি প্রত্যাখান করেছে ‘মুসলিম নেতারা’। কেন? কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইজরাইলের পক্ষ নিয়ে ফিলিস্তিনি ভাইদের বিরুদ্ধে গেছেন। এই মানবতাবোধ ও তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের যে অর্গানিজেশন সেখানে ধর্ম নেই?

ঢাকায় ফিলিস্তিনের উপর ইজরাইলের হামলার প্রতিবাদের দাড়িঅলা জোব্বা টুপিঅলাদের মটরসাইকেল মিছিল কি ধর্ম ছাড়া বেরিয়েছে?

ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ইসলাম ও মুসলমান নেই এমনটা যারা বলে তারা ভন্ড। বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান ভেঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধ করছিলো তখনও ইসলাম ও মুসলমানিত্ব চলে এসেছিলো। ৫৭টা মুসলিম দেশ পাকিস্তানের পক্ষে কেন ছিলো? কারণ পাকিস্তান মুসলিম কান্ট্রি। ওআইসি তখন পাকিস্তানের পক্ষে কেন ছিলো?

প্রতিবাদ কিন্তু সবখানে সুষম বন্টন হচ্ছে না! তুরস্ককে ১০ লাখ আর্মেনিয় খ্রিস্টান হত্যার জন্য কি হিটলারের মত ঘৃণ্যিত হতে হয়? এই ইতিহাস তো কেউ জানেই না! কারণ ঐ অর্গানিজেশন! দেড়শ কোটির বাজার!

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

1 thought on “প্রতিবাদের সুষম বন্টন কি পৃথিবীতে সম্ভব?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix