দুদিন পর পর হামলা মামলার নাটক না করে গণিমতের মাল লুটকে বৈধ করে দিন

বাংলাদেশে ‘গণিমত আইন’ পাশের দাবী জানাচ্ছি। দুদিন পর পর একটা করে হিন্দু এলাকায় হামলা হবে, বৌদ্ধ পল্লীতে চড়াও হবে, তারপর মামলা হবে অজ্ঞাত তিন চারশো জনের নামে -এইসব ভনিতার বদলে গনিমত আইন পাশ হলে লুটপাটের বিরুদ্ধে আর অহেতুক ‘জর্জ মিয়া’ নাটক তৈরি করতে হবে না। ‘শত্রু সম্পত্তি’ আইন করে হিন্দুদের স্থাবর সম্পত্তি দখলের লাইসেন্স যদি এদেশে হতে পারে তাহলে সোনাদানা, মোবাইল, টাকা পয়সা, মাঠের ফসল, ফলের বাগান, পুকুরের মাছ লুটের লাইসেন্স দিলে সমস্যা কি?
বিবিসি সুনামগঞ্জের শাল্লার ভুক্তভোগীদের মুখ থেকে তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এভাবে, হামলার সময় দুই সন্তানের মা লবঙ্গ রানী এবং তার পুত্রবধু বাসায় নিজেদের কাজ করছিলেন। “হঠাৎ খবর পাই দু’দিক থেকে নৌকায় করে লাঠিসোটা নিয়ে লোকজন আসতেছে। বউকে নিয়ে ওই অবস্থাতেই ঘরে তালা দিয়ে দৌঁড় দেই হাওরের বাঁধের দিকে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফিরে এসে দেখি ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে”।

“শব্দ শোনা যাচ্ছিলো যে ভাংচুর করছে। তালা ভেঙ্গে তারা ঘরে ঢুকে। ফিরে এসে দেখি আলমারি ভেঙ্গে টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার যা ছিলো সব নিয়ে গেছে।” ভুক্তভোগী আরেকজন জানান দেড় ঘন্টার মতো প্রায় প্রতিটি বাড়িতে তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা এবং এ সময়ে তাদের সহায়তার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। “ঘরে ঘরে ঢুকে চেয়ার টেবিল আলমারি ভেঙ্গেছে তারা। যার ঘরে যা পেয়েছে তাই নিয়ে গেছে বা ভাংচুর করেছে।” তিনি জানান তার সাথে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছিলো বহু নারী ও কিশোরী। ঠাকুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন আরেক ফ্যািমলি। “সেখানেও হামলা করেছে। আমরা এক কক্ষে ছিলাম। সেখান থেকে শুনতে পাচ্ছিলাম ভাংচুরের শব্দ। শাবল দিয়ে তারা ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি ঘরটি দালান বলে। হামলাকারীদের দলটি বাড়ি থেকে সব লুট করে নিয়ে গেছে”।

একদম ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে না? তারও আগে ৪৬-৪৭, ৬৪-৬৫ সালেও, কখনো তাদের পরিচয় হয় মুসলিম লীগ, কখনো জামাত ইসলাম, কখনো বিএনপি, কখনো হেফাজত ইসলাম, কখনো আওয়ামী লীগ। আসলে তাদের পরিচয় তারা হিন্দুদের প্রতিবেশী। তারা মুসলমান গ্রাম চাচা, ভাই, মামা, খালু হিসেবে বহুকাল ধরে হিন্দুদের সঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। এদের হাতে গনিমতের মাল লুট হতে দেখেও মিডিয়ার সামনে বলবে হামলাকারীদের আমার চিনি না। তারা বাইরে থেকে এসেছিলো।… এসব না বললে সোমত্ত মেয়ে নিয়ে কি করে গ্রামে বসবাস করবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেছেন সবচেয়ে হাসির কথা! দাঁড়ান একটু হেসে নেই! সুনামগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার বক্তব্য না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন ‘আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে দেখলাম না এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে। আওয়ামী লীগেও কি সাম্প্রদায়িক লোকজন ঢুকে গেছে?’(প্রথম আলো)

আওয়ামী লীগ কি তোমাদের দেশ স্বাধীনের পর ডাকছিলো থাকতে? কেন আসছিলা ভারত থেকে? নিজের দেশ? ওইটা মুসলিম লীগ পান আর বিড়ি টানতে টানতে লড়কে কিনে নিয়েছিলো। আওয়ামী লীগ নাসিরনগর হামলায় বড় ভূমিকা নিয়েছিলো, বিচার হয়নি। এখানেও আওয়ামী লীগ হেফাজত যৌথভাবে জড়িত। জানা কথা বিচার হবে না। জেল খাটবে ঝুমন দাস আপন একা। রসরাজ টিটু রায়ের পর ঝুমন এভাবে একটার পর একটা আসতে থাকবে। যারা প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা করতে ছুটেছিল তারা কেউ এরকম সাম্প্রদায়িক হামলায় আদালতে যাবে না। পোগতিশীল বুদ্ধিজীবীরাও সবাই “বাঙালী মুসলমান” । আহমদ ছফাকে কোলকাতার একটা লিটলম্যাগ জিজ্ঞেস করেছিল ৯০ দশকে বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের বিপদ আছে কিনা। বাবরি মসজিদ ইস্যুতে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা ও তসলিমা নাসরিনের দেশত্যাগের সেই সময়ে তিনি উত্তর করেছিলেন, বাংলাদেশে এরকম কোন বিপদ তিনি দেখছেন না, তবে ভারতের হিন্দুত্ববাদ নিয়ে তিনি চিন্তিত। কাজেই পোগতিশীল বাঙালী মুসলমানদের নিরবতা প্রত্যাশিত। কিন্তু আদালত তো কত বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে একবার সংখ্যালঘু হামলা নিয়ে সরকারকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে পারে না তারা আসলে কি চায়? বাংলাদেশে একটি সংখ্যালঘু হামলার বিচারও করা হয়নি। এমনকি বিএনপি জামাতের সময় সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জের হামলাগুলোও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিচার করেনি! কিছু বুঝলা ‘হিন্দু লীগ’? কাঁচকলা বুঝছো! দুইদিন আগে যারা ‘পিতা পিতা’ বলে গলা কাঁপাচ্ছিল এখন সবগুলি শাল্লার তান্ডব দেখে ভোদাই হয়ে গেছে…!

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix