তাবলীগ জামাত সুফিবাদ ও জঙ্গিবাদ

একটা কথা সব সময় শুনবেন, তাবলীগ জামাত খুব শান্তিবাদী এরা জঙ্গিবাদে নেই কাজেই পোলাপান তাবলীগ জামাতে যেতে চাইলে সবাই উত্সাহিত করে। ভাবখানা এমন জেএমবি আইএসের মত জঙ্গিবাদে মগজধোলাই হওয়ার চেয়ে তাবলীগে গিয়ে নামাজকালাম পড়ার দাওয়াত দেয়া বরং ভালো। ইসলাম নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা এরকমই ভুল ভ্রান্তিতে ভরা। আপনাদের পরিস্কার করে বলি, তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস তাবলীগ জামাত প্রতিষ্ঠার উদ্দশ্য বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “আমি ওই দিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন মসজিদ থেকে জিহাদের জন্য মুজাহিদ বাহিনী যাত্রা করবে”।

মাওলানা ইলিয়াস বলতেন, বর্তমানে জিহাদ করার মত পরিস্থিতি মুসলমানদের নেই, এখন মুসলমানদের মক্কা থাকার সময় যেভাবে নবী তাবলীগ করেছিলেন সেই কৌশল নিতে হবে। যখন মদিনার মত পরিস্থিতি তৈরি হবে সেদিন জিহাদের ডাক দিতে হবে। সেই লক্ষ্য তৈরি করতে মুসলমানদের প্রথমে ঈমান দৃঢ় করতে নামাজকালামে পাঞ্জাগানা হতে হবে। ইসলাম অনুসারী হতে হবে। কিন্তু সবাইকে জানতে হবে ‘প্রত্যেক মুসলমানকে অবশ্যই চারটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে হবে-  মুতাআল্লিম,  মুআ’ল্লিম, মুবাল্লিগ,  মুজাহিদ। মুজাহিদ মানে যোদ্ধা। মুসলমানদের খিলাফতের জন্য যোদ্ধা হতে হবে। ভারতে থেকে জিহাদের ডাক দেয়ার চাইতে গজওয়াতুল হিন্দু হবার আগে দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করার কৌশলের নাম হচ্ছে ‘তাবলীগ জামাত’। এটি মোটেই আধ্যাত্মিক ধর্মচর্চার কোন গ্রুপ নয়। এটিরও মূল উদ্দেশ্য জিহাদ করে খিলাফত বানানোর জন্য মুসলমানদের তৈরি করা।

 

এবার বলা দরকার সুফিবাদের কথা। সুফিদের শান্তিবাদী বলা ইসলাম সম্পর্কে আরেকটি মূর্খতার নিদর্শন। ভারতবর্ষে ইসলামের প্রবেশ তরোয়ালের জোরে হয়েছিলো এটি তো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আফগান তুর্কি আরবী শাসকদের ভারতবর্ষে এসে শাসন শুরু হয়েছিলো সুফিদের হাত ধরেই। ভারতে ‘গজওয়াতুল হিন্দ’ পরিচালনা করার জন্য সুফিরাই বাদশাহদের মূল আড়কাঠি ছিলো। প্রতিটি মুসলিম বাহিনীর আক্রমনের সঙ্গে সুফি দরবেশ ওলি আউলিয়ারা থাকতেন। তারাই বিজিত স্থানে ইসলামের ফয়সালার মাসওয়ালা দিতেন শাসকদের। যেমন পৌত্তলিকদের জিজিয়া কর দিয়ে বাঁচার কোন পথ নেই। তাদের ইসলাম গ্রহণ করতেই হবে নয়ত মরতে হবে। আবার তারাই জিজিয়া করের জন্য পৌত্তলিকদের জিজিয়া দেয়ার হাদিস রেফারেন্স দিয়ে দিল্লির হিন্দুদের সবাই হত্যা না করতে ফতোয়া দিয়েছিলেন। সুফিদের কারণেই অনেক মুসলিম শাসক হিন্দুদের প্রতি উদার হতে পারেননি। হিন্দুদের রাজদরবারে প্রশাসক হিসেবে চাকরি দেয়ার ঘটনায় সুফিরা অন্য মুসলিম শাসকদের চিঠি লিখে আক্রমন চালানোর উশকানি দিতেন এই কথা বলে যে বাদশাহ কাফেরদের মর্যাদা দিচ্ছে যেটা ইসলাম সম্মত নয়। সেই সুফিদের নানা রকম মাজারকে বর্তমানে উপমহাদেশের উদার ইসলামের বিজ্ঞাপন হিসেবে দেখানো হয়।

 

এবার বাংলার ‘সহজিয়া ইসলাম’ নামের সোনার পখরবাটি নিয়ে কথা বলা উচিত। একদল দাবী করেন বাংলার মুসলমানরা কোনকালেই জিহাদ জঙ্গিবাদের ইসলামকে জানত না, তারা গ্রামবাংলার বাউল প্রভাবিত সহজিয়া ইসলামকে অনুসরণ করতেন। প্রথম কথা হচ্ছে ‘সহজিয়া’ বলতে ইসলামের কোন মাযহাব নেই। গ্রামের বাউলরা বিশেষত লালল যে ধর্মকথা বলতেন সেটা তার একান্তই নিজস্ব চিন্তা। হিন্দু ইসলাম মিশিয়ে লালন তার ভাববাদকে অন্য এক আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানে ব্যস্ত রেখেছিলেন। এটাকে ইসলাম বা সনাতন কোন ধর্মমত বলাটা হয় আহাম্মকি নয়ত মতলববাজী। বর্তমানে ফরহাদ মজহার সেই মতলববাজীটাই করছেন। গ্রামীণ সাধারণ কৃষক মুসলমান সমাজ এককালে হিন্দু সংস্কৃতি যা তার নিজস্ব সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতি জীবন মুসলমান হয়েও যাপন করত। তাই মুসলমানদের নামগুলোও হিন্দুদের মত হত। সামাজিক আচার পোশাক প্রথায় হিন্দু মুসলমানদের প্রভেদ ছিলো খুব কম। এর পিছনে ইসলামের কোন ভূমিকাই ছিলো না। ছিলো বাঙালীদের নিজস্ব যে সংস্কৃতি তার প্রভাব। মুসলমানদের তখনকার সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে মুসলমানদের হিন্দুদের থেকে আলাদা নাম পোশাক প্রথা সংস্কৃতি গ্রহণ করতে মীর মোশাররফ হোসেনের মত লেখকও বই লিখে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে হাজি শরীয়তুল্লাহ তিতুমীর এই আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ধর্মীয় আন্দোলনের মাধ্যমে।

 

এই হচ্ছে ইতিহাস। ঠগ বাছতে গা উজার! উদার শান্তিবাদী খুঁজতে গেলে লুঙ্গি থাকবে না! অনেকে বলেন সুন্নীরা বেশি কট্টর অন্যরা ততটা নয়। এটাও ভুল কথা। ইরানে তো শিয়ারাই দেশ চালাচ্ছে। সেখানে তো কোন মেয়ে ধর্ষিতা হলে চারজন সাক্ষি তাকেই আনতে আদালত নির্দেশ দেয় ধর্ষণ প্রমাণ করতে! এটা তো শরীয়া আইন। সুন্নি থেকে তারা ভিন্ন কিসে?

 

-সুষুপ্ত পাঠক

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix