জিহাদ (জঙ্গিবাদ) থেকে মুক্তির উপায় কি?

যতদিন ইসলাম থাকবে ততদিন জিহাদও থাকবে। হাদিসের বই থেকে গাজওয়াতুল হিন্দ কে উঠিয়ে নিবে? কুরআনের সাড়ে চারশো জিহাদের আয়াত ইসলাম যতদিন থাকবে ততদিন থাকবে। তাহলে জঙ্গিবাদ পৃথিবী থেকে উঠে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই নাকি?

ভারত স্বাধীন হবার পর নেহেরু হিন্দুদের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় শিক্ষা উঠিয়ে দিলেন। ভারত থেকে টোল উঠে গিয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা জনগণের জন্য সাব্যস্ত হলো। কিন্তু ভারতের মুসলমানরা নিজেদের আলাদা এক জাতি মনে করে। ভারতের ভোটের রাজনীতি সেই ভ্রান্ত ধারণাকে স্বীকৃতি দিয়ে মুসলমানদের জন্য নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থা বেছে নিতে তাদেরকেই দায়িত্ব দেয়া হলো। মুসলমানরা নিজেদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বেছে নিল।

ভারতের হিন্দুরা এক সময় ধর্মের বিধানে জীবন্ত মানুষকে শবের মত দাহ করে ফেলত। ইংরেজ আমলে আইন করে সেই শাস্ত্রীয় বিধান বাতিল করেছিল। তখনকার সাধারণ হিন্দুরা নিশ্চয় এটাকে ভালো ভাবে নেয়নি। তারপর বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের পক্ষে সই সংগ্রহ করলেন মোটে ৯৮৭টি। বিপক্ষে রাধাকান্ত দেব ৩৬৭৬৩টি সই সংগ্রহ করলেন। অর্থাৎ হিন্দুরা বিধবা বিবাহ চায়নি। তার মানে বড় রকমের পাবলিক সমর্থন ছাড়াই, হিন্দুদের ধর্মানুভূতিকে অগ্রাহ্য করেই ইংরেজ সরকার সেদিন বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেছিল। মানে রাষ্ট্র একটা সম্প্রদায়ের পরিবর্তন আনতে পারে তার রাষ্ট্রীয় শক্তি দ্বারা। নেহেরু টোল না উঠালে ধর্মান্ধ হিন্দু তৈরি হত রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায়। যেমন দেওবন্দে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জঙ্গি মানসিকতার মুসলমান তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারের কোন রকম নজরদারির অধিকার নেই। এটাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জঙ্গি মৌলবাদী মুসলমান বানানোর কার্যক্রম বলা ছাড়া উপায় নেই। তাহলে দেখা যাচ্ছে জিহাদ ও জঙ্গি তৈরি বন্ধ করতে রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ একটি পথ যা আজ অব্দি কোন মুসলিম অঞ্চলে প্রয়োগ হয়নি। যদি বাগদাদের খলিফাদের মোতাযিলা মতবাদের মদত দেবার উদাহরন দেই সেখানেও দেখা যাবে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ মুসলমানদের গোঁড়ামি ছেড়ে বেরিয়ে আসার নজির আছে।

এরজন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন বুদ্ধিজীবীদের ধর্ম বিরোধিতা। যদি বাংলাদেশের কথা প্রথমে বলি, এখানে প্রগতিশীল বলে পরিচিতরাই সরকারি খরচে হজ করে আসে! এরা কখ‌নো ইসলামের বিরোধিতা ভয়ে করে না ঠিক নয়, এরা মনে করে মুহাম্মদ মদিয়ায় একটা সেক্যুলার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন! এমনই তাদের নবীপ্রেম!

পক্ষান্তরে সেকালের মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, রাজকৃষ্ণ বন্দোপাধ্যায়, কিশোরীচাঁদ, অক্ষয় কুমার দত্ত প্রভূতি ব্যক্তিত্ব ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। অপরদিকে বাংলাদেশের শিখা গোষ্ঠীকে প্রথম প্রগতিশীল বলে যে দাবী করা হয় তারা সকলেই ছিলেন নবী মুহাম্মদ প্রেমি! এরা কখনোই ইসলামের কোন বিধানের বিরুদ্ধে কথা বলেনি। ইসলামে নারীনীতি, রাষ্ট্রীয় বিধানের বিরুদ্ধে কথা বলেনি। মানে এখানে কখনোই বুদ্ধিভিত্তিক ধর্ম বিরোধিতা ঘটেনি। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত আরজ আলী মাতুবব্বর হুমায়ুন আজাদ তসলিমা নাসরিনরা কাজ করেছেন ঠিকই কিন্তু কোলকাতার আঠারো উনিশ শতকের মত জ্বলে উঠার তুলনায় এগুলো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত আলোক বিন্দু মাত্র।

আমি কিন্তু ইউরোপের অনেক দেশের ইসলামের উপর বিধিনিষেধের পক্ষে এবং আশাবাদী ইসলাম পালনে মুসলমানদের জন্য কঠিন করে তুলতে পারলে জিহাদ খিলাফত চিন্তা মাথা থেকে যাবে। ইসলামিক পুরোহিতদের খেয়ে পরে বাঁচার জন্য ইসলামের উপর ভর করা যাতে অসম্ভব হয় সেটা রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারে। আরব দেশগুলো থেকে মসজিদ মাদ্রাসায় দানের টাকা আসা বন্ধ করা একটি পথ। জার্মানিতে মসজিদ বানাতে সৌদি অর্থায়ন কি ঠেকানো কঠিন?

আমি মনে করি কোন কিছুই পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়। এত কিছুর পরও হিন্দুদের মধ্যে বিধবাদের বিয়ে ভালো চোখে দেখে না বহু হিন্দু। কয়েক বছর আগেও খবরের কাগজে দেখেছি ভারতের কোথায় যেন সতিদাহ ঘটেছে। কিন্তু বড় বাস্তবতা হচ্ছে হিন্দুরা বিগত দুইশো বছরের একটা প্রচন্ড কুসংস্কার সমাজ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে যার পিছনে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের অবদানই মুখ্য ছিলো। আমি মনে করি মুসলমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হারে ধর্ম বিরোধিতা বাড়ছে তাতে আশাবাদী হওয়ার অনেক কিছু আছে। আমাদের যেটা লাগবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা। এটি ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়। সে হিসেবে পরিবর্তন সুদূর পরাহত! তবে ইসলাম ও জিহাদ থেকে মুসলমানদের বেরিয়ে আসা সম্ভব কিনা সে প্রশ্নে আমার উত্তর দিলাম মাত্র। হ্যাঁ এটা সম্ভব। অসম্ভব নয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix