কুরআনে চাঁদের নিজস্ব আলো সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী নিয়ে জাকির নায়েকের প্রতারণা

“চাঁদের নিজস্ব আলো নেই কুরআনে সেটা ১৪০০ বছর আগেই বলে দেয়া আছে যা সায়েন্স এই সেদিন মাত্র আবিস্কার করেছে”- আমাকে এমন ম্যাসেজ পাঠান অল্প বয়েসী ছেলেমেয়েরা। তাদের বয়েস কম বলেই এটা নিয়ে আবার লিখছি। নইলে এগুলো নিয়ে ব্লগ যুগে এমনকি ফেইসবুকে একাধিকবার লেখা হয়ে গেছে। সমস্যা হচ্ছে ওরা ইসলাম বিশ্বাসী হওয়ায় শুধুই জাকির নায়েক, আরিফ আজাদের মত ধর্মান্ধদের লেখাপত্র সম্পর্কে জানে। জাকির নায়েকের সমস্ত লেকচার কপিপেস্ট করেই এখন আরিফ আজাদ বই লিখে হিট হয়। অথচ জাকির নায়েকের ইসলামের মধ্যে বিজ্ঞান সম্পর্কে শুধু বিজ্ঞানমনস্করাই নয়, খিস্টানদের বিভিন্ন সাইটে তথ্য প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করেছে জাকির নায়েক একজন প্রতারক, শঠ, মিথ্যুক! যে ৫ মিনিটে ২৫টি মিথ্যা তথ্য দিয়ে রেকর্ড করেছে!

 

এবার তাহলে আলোচনা করি কুরআনে ১৪০০ বছর আগেই বলা ছিলো কিনা ‘চাঁদের নিজস্ব আলো নেই’। শুরুতেই বলা প্রয়োজন যেদিন থেকে বিজ্ঞানে বলা হয়েছিলো চাঁদের আলো আসলে প্রতিফলিত আলো, সূর্যের মত নিজস্ব আলো নয় তখন কুরআনের আয়াত পড়ে কেন ইবনে কাথির, তাবারী, ইমাম বুখারীর মত ইমাম ও ইসলামী স্কলাররা বলেননি চাঁদের কোন আলো নেই? বিজ্ঞান কবে বলেছে চাঁদের নিজস্ব আলো নেই- সেটা লেখার শেষে বলছি। এখন কুরআনে কি লেখা আছে আর জাকির নায়েক কি বানিয়েছেন, এবং এটা করতে গিয়ে যে শিব গড়তে বাঁদর গড়ে ফেলেছেন সেটাই বলি।

 

জাকির নায়েক তার বিভিন্ন লেকচারে ও তার রুহানী পুত্ররা তাদের বিভিন্ন পোস্টে এ বিষয়ে যা দাবী করেন সেটা এরকম: “আরবীতে সূর্যকে ‘শাম্‌স’ বলে। ‘সিরাজ’ শব্দ দ্বারাও সূর্য বুঝানো হয়েছে… চাঁদের আরবী প্রতিশব্দ হল ‘ক্বামার’ এবং কোরআনে চাঁদকে ‘মুনীর’ বলেছে। এর অর্থ হল ‘নূর’- আলো দানকারী, অর্থাৎ প্রতিফলিত আলো দেয়… এর দ্বারা বুঝা যায় যে, কোরআন সূর্য ও চাঁদের আলোর মধ্যকার পার্থক্যকে স্বীকার করে। ১০

 

জাকির নায়েক ও তার রুহানী পুত্ররা কুরআনে বিজ্ঞান আবিস্কার করতে গিয়ে যেটা করে সেটা হলো নিজেদের উপরে উঠাতে গিয়ে আল্লাকে নিচে নামিয়ে ফেলে! আরবী “নূর” শব্দের বাংলা হচ্ছে “আলো”। আলো বলতে কোন ভাষাতেই বুঝানো হয় না সেটা প্রতিফলিত নাকি নিজস্ব আলোর কথা বলা হচ্ছে। সেটা সূর্যের আলো হতে পারে, চাঁদের আলো হতে পারে, টর্চের আলোও হতে পারে…। জাকির নায়েকের কথা ধরে নিলে নূর অর্থ যদি প্রতিফলিত আলো বুঝায় তাহলে কুরআনে আল্লাহকে “আন-নূর” অর্থ্যাত নায়েকের শব্দার্থ মোতাবেক তার অর্থ “প্রতিফলিত আলো”। মানে আল্লাহ হচ্ছে প্রতিফলিত আলো! অথচ কুরআনে এক জায়গায় মুহাম্মদকে “সিরাজ” বলা হয়েছে। সিরাজ অর্থ সূর্য। মানে মুহাম্মদ হচ্ছে নিজস্ব আলো সূর্য আর আল্লাহ হচ্ছে সূর্যের আলোয় আলোকিত চাঁদ! আল্লার চাইতে এখানে মুহাম্মদ বড় হয়ে গেলো না? ইসলামে বিজ্ঞান ঢুকাতে গিয়ে আল্লারে নিচে টেনে নামানোটা কি ঠিক মুমিন ভাইরা?

এবার জানা যাক বিজ্ঞান আসলে কবে থেকে জানে চাঁদের নিজস্ব আলো নেই? কুরআন নাযিলের এক হাজার বছর আগে থেকে পৃথিবীর মানুষ জানে চাঁদের আলো ধার করা। এরিস্টটল (৩৮৪-৩২২ খ্রীষ্টপূর্ব) তিনি চন্দ্রগ্রহণকালে চাঁদের উপর পৃথিবীর গোলাকার ছায়া দেখে বুঝতে পেরেছিলেন পৃথিবীও আকারে গোল। অথচ তার মৃত্যুর এক হাজার বছর পর লিখিত কুরআন পড়লে মনে হয় পৃথিবী সমতল! পাহাড়গুলো পেড়েকের মত গেঁথে না দিলে জমিনগুলো উল্টিয়ে পড়ে যেত- কুরআনে এরকম আয়াত লেখা হয়েছে! গ্রীকরা হাজার বছর আগে যখন গ্রহের আকার, চাঁদের আলো নিয়ে গবেষণা করে তখন আরবরা যাযাবর দস্যুবৃত্তি করে ঘুরে বেড়ায়। ছাগল চড়িয়ে উট চড়িয়ে জীবিকা নির্ভর করে। তবে মুহাম্মদের সময় আরবের লোকজন গ্রীকদের লেখা বই পড়ে চিকিত্সক, দার্শনিক, পন্ডিত হওয়া শুরু করছিলো সীমিত পর্যায়ে। মুহাম্মদের একজন কাজিন হারিস বিন কালাদ গ্রীকদের মেডিকেল কলেজে হিপোক্রিতাস, গ্যালেনের চিকিত্সাশাস্ত্র অধ্যয়ন করে চিকিত্সক হয়েছিলেন এবং বিশেষ সুনাম অর্জন করে পারস্য সম্রাট খসরুর রাজ দরবারে চাকরি পান। ধারণা করা হয় এই হারিস বিন কালাদ থেকেই শোনা শোনা ভাষা ভাষা জ্ঞান থেকে কুরআন লেখক সেখানে কিছুটা বিজ্ঞান চর্চার সাহস দেখান। কুরআনের সেই “বিজ্ঞানকে” আধুনিক বিজ্ঞানের ভবিষ্যতবাণী বানাতে গিয়ে জাকির নায়েক ও তার রুহানী পুত্ররা কুরআনকে আরো বেশি করে হাস্যকর করে ফেলছে! সামনে হয়ত শেষ ইজ্জতটুকু বাঁচাতে এরিস্টটলকে ইসলামের একজন নবী ঘোষণা করে ফেলতে পারে!

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix