করোনাকালে ধর্মের দোকানগুলোর কি কাজ?

এই ছবিটি এক বন্ধু পাঠিয়েছেন। গেল শুক্রবার বাংলাদেশের একটি মসজিদের জুম্মার নামাজের দৃশ্য যেখানে লোক সমাগম এত বেশি হয়েছিলো যে রাস্তা আটকে মানুষ নামাজ পড়েছে। এবারের জুম্মার দোয়া জুড়ে ছিলো করোনা থেকে মুক্তি লাভের জন্য আহাজারী। এটা বিশেষভাবে লক্ষণীয় কারণ গেল বছর শুরুতে করোনা কাফেরদের জন্য এসেছে বলে এরা করোনাকে আল্লার সৈনিক বলেছিলো। এবার আল্লার কাছেই করোনা থেকে মুক্তি চাইছে। অথচ এখান থেকে দশজন যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে বাংলাদেশের একটি জেলা হাসপাতালেও এদের একজনও আইসিইউ বেড পাবে না! অক্সিজেন সিলিন্ডার ততগুলি নেই যতগুলি এসি সারা বাংলাদেশের মসজিদগুলো থেকে বের হবে! কেন এই তুলনা করছি বলি, এমন অনেককে আপনি চিনবেন যারা নিজের জমি দান করেছেন এলাকায় মসজিদ হওয়ার জন্য। তারপর সেই মসজিদ চারতলা করেছেন, এসি লাগিয়ে, মোজাইক টাইস করে আধুনিক করেছেন কিন্তু এখন সেই মসজিদ কি দিচ্ছে? একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার ফিরিয়ে দিচ্ছে? একটা মুয়াজ্জিন ইনজেকশন পুশ করে এই মহামারীতে সহায়তা করতে পারবে? এরকম এক বৃদ্ধ এখন অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করছেন। অথচ তার অর্থে হতে পারত নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার। এখান থেকে বের হওয়া নার্সরাই তো আহমদ শফিকে সেবা দিয়েছিলো হাসপাতালে। কিন্তু আপনি মাদ্রাসা তৈরি করে আলেম উত্পাদন করেছেন। এখন আপনার ছেলে ভালো একটা হাসপাতাল খুঁজছে যত টাকাই লাগুক! এখন কোন আলেমকে সে খুঁজছে না। মানবসভ্যতার পাপ হচ্ছে এগুলো! আমরা হাসপাতাল তৈরি করিনি। বিজ্ঞানের যাত্রায় অর্থ ব্যয় করিনি। পৃথিবীর একটিও পবিত্র গ্রন্থ কি এখন অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিকল্প দেখাতে পারছে?

ভারতে একটু পর পর একটা করে বিপদনাশীনি মন্দির না হয় কল্যাণময়ীর আশ্রম। অথচ হাসাপাতালে এখন একটিও বেড নেই। অক্সিজেন এখন ভারতের প্রধান ভগবানের নাম! উন্নত স্বাস্থসেবা নিশ্চিত হয়নি জনগনের ধর্মান্ধতার কারণেই। আবার সরকার চেয়েছে জনগণ ধর্মান্ধ থাক তাহলে শাসন করতে সু্বিধা। সরকার তাদের উন্নয়নে তাই রাস্তাঘাটের মত ধর্ম তোষণকে প্রাধান্য দেয়। কারণ জনগণ তাতে তুষ্ট হয়। জনগণ মাহামারীকে প্রথমে ষড়যন্ত্র গুজব বলে মনে করে তারপর নিজে আক্রান্ত হলে তার থেকে নিস্তার পেতে ঈশ্বরের দ্বারস্ত হয়। অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্লেগ মহামারী “জাস্টিনিয়ান প্লেগ” মহামারীতে ৫ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিলো। ৫৪১ খিস্টাব্দে সম্রাট জাস্টিনিয়ানের সময় হওয়া এই মহামারী থেকে মুক্তি পেতে মন্দিরগুলোতে চলত প্রার্থনা। পুরোহিতরা মানুষের পাপের কারণে দেবতাদের রোষ হিসেবে প্লেগকে তুলনা করত। ৫ কোটি মানুষ মারা গেলেও মানুষের মন্দির দেবতায় বিশ্বাস যায়নি। কারণ এর আটশো বছর পর আসা আরেক মহামারী “ব্লাক ডেথ” সময়কালেই পৃথিবীর মানুষ কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে মহামারী থেকে বাঁচার কৌশল আবিস্কার করে। ফলে মন্দির দেবালয়গুলোতে জনসমাগম করার উপর নিষেধ আসে। যে গ্রামে মহামারী দেখা দিতো সেখানকার মন্দির দেবালয় খালি করে মানুষ গ্রামশূন্য করে সব পালাত। প্রশ্ন তখনই মানুষের মনে আসা উচিত ছিলো তাদের রক্ষা করার বদলে দেবালয়গুলো শূন্য হয়ে পড়েছিলো কেন? ফসলের ফলনের উপর ভাগ বসানো পুরোহিতদের তাহলে কি প্রয়োজন মানুষের? ২০২১ খিস্টাব্দে যখন মঙ্গল গ্রহে মানুষের ড্রোন উড়ছে তখন ভারতের মন্দিরগুলো, বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে করোনা থেকে রেহাই পেতে দরবার করছে মানুষ! এদের কি সত্যিই ভ্যাক্সিনের উপর কোন অধিকার আছে? হাসপাতালে ডাক্তার সেবিকার মিলিত শ্রমে কি এদের ভাগ বসানোর অধিকার আছে? ক্ষোভ থেকে উত্তর দিলে- নেই! কিন্তু মানুষকে উল্টোভাবে চিন্তা করতে অভ্যস্ত করতে শেখানো শাসকদেরই দায় সবটুকুর পিছনে। মানুষ হাসাপাতাল চিকিত্সা সেবার জন্য সরকারকে দুষছে না, তাদের ক্ষোভ কেন সরকারী প্রজ্ঞাপনে ২০ জনের বেশি জুম্মা বা তারাবী পড়তে নিষিধ করেছে! ভারতে কুম্ভমেলা বন্ধ করে দিলে যতখানি ক্ষোভ হত ততখানি ক্ষোভ কি মোদীর উপর হচ্ছে করোনা বিস্তারে? হচ্ছে না। এ জন্যই শাসকরা চায় ওরা ধর্মের আফিম খেয়ে বুঁদ হয়ে থাক!

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix