ইসলাম প্রচারের নতুন ফর্মূলা ও বোকা প্রগতিশীল

“বাংলাদেশে মুসলমান আছে, ইসলাম নেই। ইউরোপে মুসলমান নেই, কিন্তু ইসলাম আছে” –এই রকম ওয়াজ আপনারা যারা শেয়ার করছেন, একই সঙ্গে বলছেন এইসব “উদার হুজুর” থাকলে নাকি ইসলাম নিয়ে দুনিয়াতে কোন সমস্যাই থাকত না- সেই হুজুরদের এই বক্তব্য কি ইউরোপের সমাজ সংস্কৃতির প্রতি হুজুরের সমর্থন নাকি কৌশলে রক্তারক্তি ইসলামকে আড়াল করছেন ভেবে দেখেছেন?

 

ইউরোপের সমাজে আমরা কি দেখি? ব্যক্তি স্বাধীনতাকে তারা মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নারীকে তারা একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে সমাজে পুরোপুরি গ্রহণ করেছে। একজন কুমারী মাতাকে ইউরোপ কি চোখে দেখে? বিয়ে ছাড়া কাপলকে কি চোখে দেখে? পোশাককে তারা স্বাচ্ছন্দ হিসেবে গ্রহণ করেছে। কেমন করে তাহলে ইউরোপে ইসলামকে দেখতে পেলেন হুজুর? ইসলাম না হয় বাংলাদেশে নাই, সৌদি, ইরানে তো আছে। তো সেখানে আমরা নারীদের কি অবস্থা দেখি? ইরানী মেয়ে বক্সার বিদেশে হিজাব ছাড়া অংশগ্রহণ করায় দেশে ফিরতে পারেনি। সৌদিতে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়া দেখে আমরা খুশি হই! বলবেন ওরা ইসলাম জানে না? আপনি তাহলে শুনে রাখুন, ইসলামে কমপক্ষে ৭৮ কিলোমিটারের কম হলে একা ঘরের বাইরে বের হতে পারবে, কিন্তু এর বেশি হলে অবশ্যই তাকে “মাহরাম” অর্থাত পিতা স্বামী ছেলে সন্তানের সঙ্গে বের হতে হবে (আহসানুল ফাতওয়া-৪/৯৫)। এর মানে হচ্ছে হিজাবী ইসলামিক আপুটি সিলেট মেডিকেলে পড়তে গেছেন হোস্টেলে থেকে তা ইসলামের চোখে স্রেফ ‘জেনা’! হাদিসে বলা আছে, “হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ তাআলা এবং কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান রাখে এমন কোন মহিলার জন্য জায়েজ নয়, তিন দিন বা এর চেয়ে অধিক দিনের সফর করে অথচ তার সাথে তার পিতা, তার ছেলে, বা তার স্বামী বা তার ভাই কিংবা কোন মাহরাম না থাকে (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪২৩)।

 

তাহলে কি দেখে বুঝা গেলো ইউরোপে মুসলমান না থাকলেও ইসলামের মত করে চলে? ইউরোপীয়ানদের সততা, শৃঙ্খল নিয়মবর্তিতা দেখে? ইউরোপে তো খ্রিস্ট ধর্ম ছিলোই। সেখানে যীশুর সততা সহিষ্ণুতার শত শত গল্প আছে। সেই খ্রিস্ট ধর্মকে বাদ দিয়েই ইউরোপের রেঁনেসার জন্ম। আর এইসব উদার-টাউট হুজুর ইউরোপের সমাজ ব্যবস্থাকে বলছে ইসলাম! পৃথিবীতে এমন একটি ধর্ম দেখান যেখানে বলছে চুরি করো, ডাকাতী কর, খাবারে ভেজাল করো, ওজনে কম দাও, খুন করো, অত্যাচার করো- এমন একটি ধর্ম পাওয়া যাবে না যেখানে এগুলো করতে অনুমোদন করে। সবগুলো ধর্মই এগুলো করবে নিষেধ করে। অথচ শুধুমাত্র ইসলামই এসব করতে নির্দেশ দিয়েছে দাবী করে ইউরোপের সুশাসনকে ইসলামের প্রতিরূপ দেখানো একটা চরম বাটপারী। সততা শৃঙ্খলা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় চোর-ডাকাতদের দলের মধ্যে। ডাকাতের দলে ডাকাতী করা মাল কেউ চুরি করে বেচে দিলে তার হাতটাই কেটে দিবে। মিথ্যা বলা সেখানে কঠিন অপরাধ। মোট কথা ডাকু দলের প্রতিটি সদস্যকে হতে হয় দলের প্রতি সৎ নির্লোভী। বিরাপ্পানের অনুসারীরা দলের মধ্যে যে কোন ধর্ম অনুসারীদের চেয়ে বেশি মাত্রায় সর্দারের বানানো নিয়মকে সততার সঙ্গে অনুসরণ করত। ধর্মগুলোও তেমনি। ধর্মের সততার নির্দেশ শুধুমাত্র নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে। ইসলামে ডাকাতী করা লুটপাট করা হারাম। কিন্তু গণিমতের মাল পুরোটাই হালাল! অমুসলিমদের দেশে অভিযান চালিয়ে তাদের ধন সম্পদসহ তাদের নারীরা হবে মুসলমানদের সম্পদ। মিথ্যা বলা মহাপাপ কিন্তু জিহাদের সময় মিথ্যা বলা জায়েজ। একদম ডাকু দলের মত। গৃহস্তের বাড়িতে যারা নিষ্ঠুরতা চালিয়ে ডাকাতী করে লুটতরাজ চালায় সেই তারাই নিজেদের আস্তানায় একটি পয়সা সরানোকে মহাপাপ মনে করে! সর্দারের সঙ্গে মিথ্যা বলাকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা মনে করে।…

 

মাওলানা সাব্বির জাদিদ নামের কে একজনের ওয়াজ শেয়ার করছে আমাদের প্রগতিশীল বন্ধুরা। বলছেন এরকম করে ওয়াজ করলে নাকি সমাজে কোন সমস্যাই থাকত না। ত্বহা নামের এক ইসলামী বক্তা যে নিঁখোজ হয়ে আবার ফিরে এসেছে তার ওয়াজগুলিও ফেইসবুক ইউটিউবে দেদারছে শেয়ার হয়েছে। আমার প্রগতিশীল বন্ধুরা তাকে জঙ্গি বলছে আবার এই হুজুরকে উদার মহান বলছে। অথচ ত্বহা নামের হুজুর ইসলামের বাইরে কিছু বলেন নাই। বরং এই হুজুরই বলছেন ইসলামকে বিকৃত করে। ইউরোপের মানবাধিকার নিশ্চিত করাকে বলছেন ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়েছে! ইউরোপের খাবারে ভেজাল নেই, ওজনে কম নেই- তাতেই সেখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলো? কেন বৌদ্ধ খিস্টান হিন্দু ধর্ম প্রতিষ্ঠা হলো না? ঐ ধর্মগুলোতে কি বলা আছে ভেজাল কর, ওজনে ঠকাও?

 

ইসলাম প্রচারের এই রকম নতুন নতুন ফর্মূলা প্রতিনিয়ত মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। কাদের বোকা বানাচ্ছে? নাস্তিকদের? অমুসলিমদের? ওয়াজ শুনে কোন নাস্তিক আস্তিক হয় না। অমুসলিমরাও সবচেয়ে বেটার ধর্ম মনে করে ইসলাম গ্রহণ করে না। তাই বোকা হচ্ছে শুধু মুসলমানরাই। নিজ ধর্মের প্রতি সহজাত অনুরাগ ইসলামের ভিন্ন কোন ফর্মূলায় প্রশংসা তাদেরকে মুগ্ধ করছে। সেই মুগ্ধতা থেকেই এইসব “উদার হুজুরদের” এত বাড়বাড়ন্ত!

 

 

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix