ইসলামে বাড়ির দাসীবাদীদের সঙ্গে অবাধ সেক্স করার দলিল

সৌদি আরব থেকে সম্প্রতি দেড় শতাধিক বাংলাদেশী নারী শ্রমিক তাদের মালিকদের দ্বারা অন্তঃসত্বা হয়ে দেশে ফিরেছেন। নারী কর্মীদের এই হাল শুধু সৌদি আরবে নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, লেবানন, ওমান ও কাতারেও ঘটছে। প্রশ্ন উঠেছে- কঠিন ইসলামী শাসন, ধর্মীয় পুলিশ যেসব দেশে থাকে ইসলামী নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে সেসমস্ত ইসলামী দেশে কেন গৃহকর্মী নারীদের বাড়ির কর্তারা ধর্ষণ করতে যায়?

আপনাদের শুনতে খারাপ লাগবে। বিশ্বাস হতে চাইবে না যে, ইসলামে বাড়ির ঝি, দাসীবাদীকে ধর্ষণ করা বৈধ। অবশ্য ইসলাম এটিকে ধর্ষণ বলে না। ইনবে কাথির তার সুরা নিসার তাফসিরে বলেছেন, একজন সধবা নারী যখন বিক্রি হয় তখন তার শরীরের উপর তার স্বামীর চাইতে বেশি হকদার হন তার মালিক। হযরত আবদুল্লাহ (র) ও হযরত ইব্রাহিম (র) এইমত দেন সুরা নিসার তাফসির করতে গিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা নবী মুহাম্মদের প্রিয় সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ একই মত দিয়েছেন বাড়ির দাসীবাদীদের সম্পর্কে। (ইবনে কাথিরের তাফসির, সুরা নিসা, পৃষ্ঠা: ৩৪৪)।

সৌদি সরকার বাংলাদেশ সরকার থেকে নির্ধারিত মেয়াদে দাসী কিনে নেয়। ইসলামী বিধান মতে এইসব নারীদের শরীরের উপর তখন তাদের সৌদি মালিকদের হক বেশি। এমনকি দেশে তাদের স্বামী থাকলে তাদের সঙ্গে তালাক পর্যন্ত হবে যাবে! সৌদি আরবের মুসলমানরা বাংলাদেশী মুসলমানদের মত ‘শুইন্না মুসলমান’ না। ইসলামী মাসায়ালা, ফতোয়া, ইসলামী শরীয়ত সম্পর্কে তাদের পরিস্কার জ্ঞান আছে। সারা পৃথিবী থেকে যেসব নারী কর্মীরা তাদের দেশে কাজ করতে আসে তারা যে সুরা নিসার ‘ডান হাত’ তাদের জন্য সেটা তারা জানে। সুরা নিসার ২৪ নাম্বার আয়াত একদম খোলাখুলি বলে দিয়েছে নিজেদের দাসীদের ভোগ করা আল্লাহর হুকুম।

এখানে অবশ্য কিছু মইসলামিস্ট দাবী করেন এই দাসী বলতে আসলে যুদ্ধবন্দিনীদের বুঝানো হয়েছে। যুদ্ধে পরাজিত কাফেরদের স্ত্রীরা মুসলমান অধিকারে চলে আসবে। এটা বলে তারা বুঝাতে চান বাসাবাড়িতে কাজ করা নারীদের কথা বল হয়নি। কিস্তু ইবনে কাথির তার তাফসিরের ইসলামের একমত আদি সাহাবীদের রেফারেন্স জানাচ্ছেন কোন সধবা নারী ঝি হিসেবে বিক্রি হলেই তাদের স্বামীর চাইতে মনিব হবেন তার শরীরের বড় হকদার! কাজেই ত্যানা প্যাচানীর কোন সুযোগ এখানে নেই।

কিছু মডারেট ইসলামবাদী ইসলামে দাসীদের সঙ্গে অবাধ যৌনতার বিধানকে আড়াল করতে আজগুবি দাবী করেন। এরা বলেন, যেহেতু এখন দাস প্রথা নেই কাজেই এই বিধান এখন অকার্যকর। হাস্যকর কথা। দাস প্রথা তো ইসলাম বাতিল করেনি। ইসলাম যেহেতু দাস প্রথাকে সমর্থন করেছে সে মতে ইসলাম আজো দাস প্রথাকে মান্য করে। তাছাড়া কুরআনের এই আয়াত যে রহিত করা হয়েছে সেটার রেফারেন্স কোথায়? কার উপর নতুন করে সুরা নাযিল হয়েছে? একটা নির্মম সত্যকে আড়াল করতে কতখানি মিথ্যা বলতে হয়, এবং মুমিন বান্দারা নিজেরাই কুরবআনের বক্তব্য কিভাবে বিকৃত করে এটি একটি বড় উদাহরণ।

সৌদি আরব আসলে পড়েছে এক মহা ফাপড়ে। নারী গৃহকর্মীদের উপর মুসলমানের কুরআন স্বীকৃত অধিকার রোধ করতে পারছে না আবার বিশ্ববাসীকে বলতেও পারছে না এটি ইসলামের একটি বিধান যা অস্বীকার করার কোন উপায় তাদের নেই। এরিমধ্যে সৌদি পুরুষদের হক পূরণের প্রচেষ্টার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ। কিন্তু আমাদের মহিলা প্রধানমন্ত্রী শাসিত বাংলাদেশ সব কিছু জেনেও ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে গৃহকর্মী পাঠানোর চুক্তি করেছে। আমাদের ধার্মীক প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কি ভাবেন জানতে খুব আগ্রহী। সৌদি রাজতন্ত্রের বাদশার প্রতি তার সমর্থন ও উচ্ছ্বাস ইউটিউবে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন…।

কাজের জন্য সারা পৃথিবীতে আজকে নারী শ্রমিক পাঠানো হয়। কিন্তু যখনই মধ্যপ্রাচ্যে নারীদের পাঠানো হয়, কঠোরভাবে ইসলামী আইন যে দেশগুলোতে প্রতিষ্ঠিত সেসব দেশে কেন নারীদের উপর ধর্ষণ চালানো হয়- বাংলাদেশী ইসলাম না জানা সাধারণ মুসলমানরা ভেবেই আকূল হন। তাদের জন্য নিচে একটা সহি হাদিস দিয়ে লেখাটা শেষ করছি।

ইসলামের চার মাজহাবের অন্যতম ইমাম মালিক মুয়াত্তার চাইতে আপনি নিশ্চয় ইসলাম বেশি জানেন না? তার বর্ণিত একটা হাদিস থেকে দেখুন বাড়ির দাসীদের অবাধে সেক্স করা কতটা ইসলামী কালচার- আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার বলেন,

একবার এক লোক উমর ইবনে খাত্তাবের কাছে এসে বলল-‘আমার একটি ক্রীতদাসী আছে, তার সাথে আমি নিয়মিত যৌনসঙ্গম করি। আমার স্ত্রী তার কাছে গিয়ে তাকে বুকের দুধ খাইয়েছে। এরপর যখন আমি মেয়েটির কাছে গেলাম, আমার স্ত্রী আমাকে বের হয়ে যেতে বলল, কারণ সে নাকি তাকে বুকের দুধ খাইয়েছে’। উমর লোকটিকে স্ত্রীকে প্রহার করার আদেশ দিলেন এবং (আগের মতোই) সে তার দাসীমেয়েটির কাছে যেতে পারবে বললেন। কারণ বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে যে আত্মীয়তা প্রতিষ্ঠিত হয় তা কেবল ছোটদের বেলায়। (মুয়াত্তাঃ বুক নং-৩০, হাদিস নং-৩০.২.১৩)।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix