ইসলামের দাওয়াত ও আল্লাহ’র বৈষম্য

-মন্দিরে গিয়ে এভাবে অন্যের ধর্ম নিয়ে কথা বলা, ইসলাম প্রচার করাটা কি গায়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক অস্বস্তি তৈরি করা হলো না?

 

-দেখেন, আমি যখন জানব আপনি ভুল করছেন তখন আমার কর্তব্য হচ্ছে আপনাকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়া। আমরা মুসলমানরা জানি জাহান্নামের আগুন আমাদের বিধর্মী ভাইদের জন্য অপেক্ষা করে আছে। আমরা চাইব না সেথানে তারা অনন্তকাল ধরে জ্বলুক। আমাদের ধর্মও বলেছে দ্বিনের দাওয়াত দিতে।

 

-আপনি জন্ম থেকেই মুসলমান, নিজেকে কত সৌভাগ্যবান মনে করছেন। আবার আরেকজন আপনার দ্বিনের দাওয়াতের উপর নির্ভর করে আছে। এরকম বৈষম্যের কারণ কি? আপনি মুসলমান তাই একদিন না একদিন জান্নাতে যাবেনই। কিন্তু বেচারা অমুসলিম তাই সেই সুযোগ হবে না। হিন্দু বা বৌদ্ধ ঘরে জন্মানোর পিছনে তো তার কোন হাত নেই। আপনারাই বলেন মুসলমান অমুসলমান সকল মায়ের গর্ভে এসে ফেরেস্তারা আত্মা দিয়ে যায়। তাহলে দোষটা কার?

 

-এ্যাঁ…ব্যা…না…হ্যা…দেখুন, এসব বুঝতে হলে আপনাকে কুরআন পড়তে হবে। তার আগে আপনাকে পুরোপুরি ইসলামের কাছে আত্মসমর্পন করতে হবে। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন আল্লাহপাক তার প্রতিটি কাজের পিছনে কি মহান উদ্দেশ্য রেখেছেন…

 

-বুঝতে পেরেছি। এবার এটা বলেন তো, মাঝে মাঝে আপনারা নাস্তিকদের সঙ্গে তর্কের সময় একটা কথা খুব বলেন, ‘আপনি ইসলাম মানেন না ঠিক আছে, কে বলছে আপনাকে মানতে। দয়া করে ইসলাম নিয়ে কোন খারাপ মন্তব্য করবেন না’। এটা বলে আপনারা সুশীল মডারেটদের কাছে নিজেদের মজলুম হিসেবে দেখাতে চান। এখন যদি অন্য ধর্মগুলোর লোকজনরা আপনাদেরকে বলে, ‘ভাই আপনি হিন্দু ধর্ম মানেন না, বৌদ্ধ ধর্ম মানেন না ঠিক আছে, দয়া করে ঐ ধর্মগুলো নিয়ে কোন বাজে কথা বলবেন না’ তখন কি করবেন?

 

-দেখুন, আমরা যেটাকে হক বলে জেনেছি তার পক্ষে আমরা কথা বলবই। তাতে কে খুশি হলো কে বেজার হলো সেটা দেখা আমাদের বিষয় না!

 

-‘হক’ মানে তো অধিকার। রোজা আপনাদের কাছে সন্মান পবিত্র কিন্তু যারাদের কাছে এগুলোর কোন মূল্য নেই তাদেরকেও সন্মান করতে বাধ্য করেন। তর্কে ঠেকে গেলেই বলেন ইসলাম মানবেন তা ঠিক আছে না মানুন, কিন্তু ইসলাম নিয়ে বাজে কথা বলবেন না, কিন্তু রোজার দিনে আমাকে প্রকাশ্যে খেতে দেখলেই আপনি চেতে উঠবেন! দিনের বেলা হোটেল রেস্তরা বন্ধের মিছিল করেন। কই আমাকে তো শান্তিতে ইসলাম না মানতে দিলেন না?

 

-৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানদের মত করেই চলবে। এটা নাস্তিক কাফেরদের দেশ না!

 

-তাহলে ৯০ ভাগ হিন্দু বৌদ্ধের দেশে নিজেদের অধিকার নিয়ে এত কান্নাকাটি করেন কেন?

 

-শালা বিজেপির দালাল! আরএসএস… মোসাদ… ইনকন… র…কাফের…

 

-হুজুর আপনে না আমাদের বাড়ির গরুর চামড়া নিয়া আসতেন ঈদের সময়? বিজেপি কাফেরদের বাড়ির চামড়া নেয়াটা কি জায়েজ হইছে?

 

-ঐ চামড়ার উপর মাদ্রাসার বাচ্চাদের হক! ঐ চামড়ার পয়সার উপর আলেমদের হক! এইটা আল্লাতালার বিধান!

 

-হুজুর আপনে দেখান কুরআন হাদিসের কোথায় বলা আছে মাদ্রাসায় কুরবানীর চামড়া দিতে হবে? নামাজ পড়ানোর চাকরি কুরআনের কোন জায়গায় লেখা আছে? কোথায় অনুমোদন আছে মাদ্রাসা খুলে কুরআন হাদিস পড়িয়ে বেতন নেয়া যাবে? মাদ্রাসার হুজুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুরআন শিখিয়ে পয়সা নেয়, এটাকে তারা বলে টিউশানি, এটা ইসলামের কোথায় অনুমোদন করা হয়েছে? ইসলাম অবমানার জন্য আপনারা হেফাজত ইসলাম খুলে সারাদেশের নীতি নির্ধারক হয়ে বসে আছেন, অথচ আপনাদেন ইনকাম পুরোটাই ইসলাম অনুযায়ী হারাম! অন্যের জাহান্নামের কথা মনে করে আপনাদের রাতের ঘুম হয় না। মন্দিরে গিয়ে বলছেন তারা বিপথে আছে! মন্দিরের সেবায়েতরাও আপনাদের মত সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের মাথায় হাত বুলিয়ে খেয়ে পড়ে আছে। আপনারাও খেতে থাকুন! যতদিন সমাজে বিশ্বাসের গরু ছাগল ভেড়া আছে ততদিন তহবিলে কম পড়বে না। দয়া করে খালি দৌড়টা মসজিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন! সমাজে আর বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না! যেচে আর কাউকে দাওয়াত দিতে যাবেন না!

 

-তর কথায়? হালার নাস্তেক!

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix