আওয়ামী লীগের ঘরে হেফাজতের স্বর। কেন কিভাবে?

খুব নিবিরভাবে খেয়াল করলে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় ভীত হওয়ার মত বিষয় আছে। সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের হামলা তান্ডবের ঘটনায় স্থানীয় ওসিদের বরখাস্ত ও বদলি ঘটেছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হেফাজতকে সুযোগ করে দেয়া অভিযোগ উঠেছে। মানে সরকার ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিলো কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন সেখানে কাজ করেনি। আরো বিপদের কথা সরকারী দলের ছাত্র সংগঠের নেতাদের হেফাজতকে সমর্থন করে দল থেকে পদত্যাগ, বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি হেফাজতের সমালোচনা করে ছাত্রলীগের নেতাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে হেনস্থা করেছে। মামুনুল হককে হেনস্থা করার অভিযোগে সাংবাদিকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে হেফাজত কর্মীরা। বেশ কয়েকটি নিউজের স্ক্রেণশর্ট দিলাম লেখার সঙ্গে। এবার একটু সরলভাবে চিন্তা করার চেষ্টা করি। সব কিছুর পিছনে ষড়যন্ত্র, পর্দার আড়ালের খেলা এগুলো বলে জাস্ট বাস্তবতাকে প্রায় সময়ই ভুলভাবে উপস্থাপন করে। বাংলাদেশের মানুষজন জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। এগুলোকে তারা ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু ইহুদীনাসারাদের চক্রান্ত মনে করে। বেশ কথা। কিন্তু বিস্মিত হয়ে খেয়াল করে দেখি, কথিত সেই ইহুদীনাসারাদের হয়ে যারা কাজ করছে সেই ‘জঙ্গিরা’ যখন ধরা পড়ে তখন পাবলিক খুশি হওয়ার বদলে নানা রকম ষড়যন্ত্রের দাবী করে! যেমন ইসলাম শাস্তির ধর্ম বলে সবাই মনে করলেও হেফাজতের তান্ডবে তাদের শীতল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মাদ্রাসাগুলোতে বলাত্কারের মচ্ছব লেগে গেলেও তাদের আলেম ওলামা তোষণ অব্যাহত থাকে। বিপদজনকভাবে বাংলাদেশের সোসাইটিতে সব কিছুর মধ্যে ইসলাম প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ করো বা বিএনপি- মরার পর তো এসব সঙ্গে যাবে না তাই ধর্মের প্রশ্নে তারা সকলেই আলেম ওলামাদের ইসলামী আন্দোলনের সমর্থক। তাই ছাত্রলীগ নেতা মামুনুল হককে সমর্থন করছে। ওসি সাহেব হেফাজতের তান্ডবে নিরব থাকছেন।

কি আপনার কাছে সরলীকরণ মনে হচ্ছে? আমি বলছিনা পুরো দেশের লীগপন্থিরা মনে মনে হেফাজত সমর্থক। তবে তারা সকলেই তো মুসলমান! তাদের সকলের নিজের মত করে ইসলাম আছে। সকলেরই একটি করে তালগাছ আছে। সকলেই জিরাফে ও ধর্মে সমানভাবে থাকার প্রক্টিস করে। একটা লোক বউকে হাত মোজা পা মোজা পরিয়ে, বোরখায় মুড়িয়ে স্ত্রীকে পর্দা করায়। নিজে গোঁফ চেঁচে দাড়ি রেখে টুপি পাঞ্জাবী গায়ে হুজুর বেশে আওয়ামী লীগের নেতা। ভদ্রলোক ইসলামের এতখানি একনিষ্ঠ অনুসারী, এত মাসালা জেনে সেই রকম পোশাক পরিচ্ছিদ নিজে পরছেন স্ত্রীকে পরাচ্ছেন তিনি গজওয়াতুল হিন্দ মানেন না? তিনি ইসলামী আইনে বিশ্বাস করেন না? তিনি খিলাফত ইমাম মাহদীর অধিনে কাফের মুশরিকদের পতনে বিশ্বাস করেন না- তা কি করে হয়? উনি মদ খান কিন্তু নেশা হয় না তা কখনো হয়?

বাংলাদেশে এ কারণেই আপনি সেক্যুলার লোকজন হারিকেন দিয়ে খুঁজেও পাবেন না। কারণ একজন বিশ্বাসী মুসলমান কোন এক বয়সে ইসলামের কাছে আত্মসমর্পন করবেই। ইসলামে যেহেতু ধর্মরাষ্ট্র ও ধর্ম আইন বান্তবায়নের শর্ত প্রধান ও অন্যতম তাই সেক্যুলার হওয়া কোন ধার্মিক মুসলমানের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। হেফাজত তাই এখন জোর দিয়ে বলে যে যেই পার্টি করেন সমস্যা নাই। কিন্তু ইসলামের ডাকে সাড়া দেয়া সব মুসলমানদের জন্য ফরজ। সাধারণ মানুষ ধর্মকে যেভাবে জানে তাদের চিন্তাকে সেভাবেই ধরতে হবে। সেটা না করে হেগেল, দেরিদার, সাঈদ, গ্রামসি, চমেস্কি, ফুকোর চশমা দিয়ে যারা সাধারণ মুসলমানদের ইসলামের প্রতি অনুরাগ, তাদের সোজাসাপ্টা যে ইসলাম ধর্ম সেটা না দেখে বিমূর্ত দার্শনিক আবল তাবল বকে, অবাস্তব ইসলামী দর্শন আওড়ে হেফাজত ইসলামের প্রভাব বুঝা যাবে না। কয়জন ওসিকে বদলি করবেন? কয়জন নেতাকে বরখাস্ত করবেন? দোহাই লাগে, ইসলামকে এই মুহূর্ত থেকে সামলান! রাষ্ট্র থেকে, রাজনীতি থেকে, এডুকেশন থেকে, প্রতিষ্ঠান থেকে, অফিস থেকে, কারখানা থেকে সরিয়ে ব্যক্তিগত স্তরে পালনের দিকে জোর দিন। রাষ্ট্র ছাড়া এটা কারোর পক্ষে সম্ভব না!

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix