অ-হিন্দুদের মন্দিরে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা: উগ্রতা নাকি বাস্তবতা?

এই নির্দেশ সম্ভবত মুসলিমদের লক্ষ করে। কেন বললাম সেটা বলি, বাংলাদেশের বান্দরবানের বৌদ্ধ স্বর্ণ মন্দির ও দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির  দেখতে গিয়ে দেখেছি এসব স্থানে মুসলিম পর্যটকরা চরম অশালীন, অসন্মান, অপদস্ত করছে অন্যের ধর্ম ও বিশ্বাসকে। ধ্যানরত বুদ্ধের মূর্তির সামনে কপট ধ্যানের ভঙ্গিতে ঠাট্টা ব্যঙ্গ সহকারে ফটো তোলা তো একটি জনপ্রিয় মুসলিম তারণ্যের উচ্ছ্বাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরাই আবার তাদের নবীর সন্মানহানীর অভিযোগ তুলে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে ফেলে। অনেক জায়গায় হিন্দু বন্ধুদের সামনে মুসলিমদের এইরকম আচরনের কারণে বিব্রত হয়েছি। বিষয়টা যে সিরিয়াস সেটা বুঝা যায় যখন ২০১৬ সালে বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির কর্তৃপক্ষ সাধারণ পর্যট্রকদের জন্য মন্দির পরিদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বিবিসির কাছে তখন স্বর্ণ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত উপ ঞ ঞা জোত মহাথেরের সেক্রেটারি বাচ মঙ জানিয়েছেন, “পর্যটকেরা মন্দিরের বিভিন্ন মূর্তি স্পর্শ করে এমনকি পূজার আসনে বসে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করছে। মন্দিরের পূজার দ্রব্য ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। অনেক পর্যটক জুতা নিয়েও মন্দিরে প্রবেশ করে। তাদের বাধা দিয়ে বাকবিতন্ডা তৈরি হয়েছে, মন্দিরের কর্মকর্তারা হুমকি-ধামকির মুখেও পড়েছেন”-বলেন মি: মঙ। বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতেই মন্দির কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের জন্য স্বর্ণ মন্দিরে ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে বলে জানান বাচ মঙ।

নিউজ লিংক: https://www.bbc.com/bengali/news/2016/02/160217_bangla_bandarban_sorno_mondir_tourist_restriction

মুসলিমরা মন্দিরে ঢোকে তামাশা দেখতে! মসজিদে কিন্তু অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু তারা মন্দিরে গিয়ে মূর্তি পুজার দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে চেয়ে থাকবে। মুসলিমদের মজ্জাগতভাবে অন্যের ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধার কারণে এটি ঘটে। দেহরাদূনের ১৫০টি মন্দিরে ‘অহিন্দুদের প্রবেশে’ যে নিষেধাজ্ঞা তার কারণ সম্ভবত একারণেই। মন্দিরে যাবে পুজার্থীরা। শিল্পমন্ডিত মন্দির গির্জা মঠ জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেখার সুযোগ করে দেয়া হলেও মসজিদে গিয়ে কোন অমুসলিম ঘুরে বেড়াতে পারবে না। কিংবা ধরেন, মসজিদের মিম্বরে উঠে ঠাট্টা ফাজলামী করে ফটো তুলল, নামাজ পড়ার ভান করে তামাশা করল কোন মুসলমান সহ্য করবে? আমার তো মনে হয় দ্রুত একটা দাঙ্গা বাঁধানোর জন্য এই রকম ঘটনাই যথেষ্ঠ। তখন আপনারাই বলবেন, মুসলমানদের অনুভূতি নিয়ে এরকম ঠাট্টা করাটা ঠিক হয় নাই!

 

ভারতের বাম ও লিবারালদের দেখলাম দেহরাদূনের ঘটনায় কান্নাকাটি করছে খুব। দেশটা নাকি কট্টর হয়ে যাচ্ছে। এদের আসলে দেখার চোখ নেই। সত্যকে সত্য বলে স্বীকার করার ইচ্ছা নেই। হ্যাঁ, এরকম শুরু হলে আমার মত শিল্প সৌন্দের্যের সুধা গ্রহণ করতে যারা বহুদূর ছুটে যায় তেমন মানুষ বিপদে পড়বে। তারাও নিষেধাজ্ঞায় পড়ে যাবে। মনে করেন, দশ বছর আগে স্বর্ণ মন্দির দেখে ফেলেছি। এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলে নতুন কেউ দেখতে পারবে? অনন্য সুন্দর একটা স্থাপত্য দেখা থেকে প্রকৃত সৌন্দর্য পিপাসুরা বঞ্চিত হবে। কিন্তু স্বর্ণ মন্দিরের পুরোহিত কি বলল উপরে পড়েছেন নিশ্চয়। তাদের কঠর হওয়াকে কি আর দোষ দেয়া যায়?

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix