‘ন’ এই শহরের একজন অদৃশ্য মানুষ। তাকে কেউ দেখতে পায় না। তাকে ভেদ করেই মানুষ অন্য জনে মনোযোগ দেয়। মাছের বাজারে থলে হাতে দাঁড়িয়ে থাকলেও মাছওয়ালা তার দিকে ফিরে তাকায় না। তার সামনেই হাই তোলে। হাত দিয়ে মাছি তাড়ায়। ন গলা খাকড়ি দিয়ে বলে, এই যে, দুইশা টাকা দিলে হবে না? তখন স্যুট কোট পরা ‘উকিল সাব’ মুহুরিসহ এখানে এসেই দাঁড়ায়। মাছওয়ালা ন-কে ভেদ করেই পরিস্কার উকিল সাবকে দেখতে পায়। স্যার স্যার বলে উঠে দাঁড়ায়। খাতির করে ন দাঁড়ানো জায়গাতেই এসে দাঁড়াতে অভ্যর্থানা জানায়। ন সরে জায়গা দেয়। বজলু জাউল্লা ঝাঁপির ডালা সরিয়ে মাছের ল্যাজ ধরে পাকা রুই দেখায়। ন থলে হাতে পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। উকিল সাব বাজারে আসলে একটা সাড়া পড়ে যায়। জিনিস পছন্দ হলে দামাদামির প্রশ্নই আসে না। ইলিশ কিনলে হালি ছাড়া কিনেন না। চিংড়ি কৈ পছন্দ হলে ডালায় যা আছে সব তার। বাজার করতে পছন্দ করেন। সময় পেলেই বাজার করেন। ন অনেকক্ষণ উকিল সাবের বাজার করা দেখল। বাজার ঘুরে গলদা চিড়িং, পদ্মার ইলিশ, বড় বড় কৈ শিং সব চোথের সামনে বিক্রি হতে দেখল। শেষে ট্যাংরা ভাগা কিনে বুড়ো মত এক গরীব মাছওয়ালার কাছ থেকে। সেও ন-কে দেখতে পায়নি। বিড়বিড় করে বিরক্তিতে কি যেন বলে। ন দুহাতে থলে মেলে ধরলে বুড়ো অদৃশ্যের কাছেই যেন মাছ বিক্রি করে। ন’র দিকে মুখ তুলেও তাকায় না।
ন প্রথম নিজেকে অদৃশ্য হিসেবে আবিষ্কার করেছিলো যখন সে স্কুল পাশ করে কলেজে প্রবেশ করল। স্কুলের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে কলেজের নতুন পরিবেশে ফাস্ট ইয়ার শেষে হতে না হতেই ন নিজেকে ক্রমশ অদৃশ্য হতে আবিস্কার করে। ক্রমশ সে অদৃশ্য হতে শুরু করেছিল সহপাঠিদের কাছ থেকে। পিকনিক কিংবা বন্ধুদের বার্থডে কোথাও তার ডাক পড়ে না। সবাই জানত ন আসতে পারবে না। ক্যান্টিনে কোকাকলা, কাকলেট খেয়ে বন্ধুদের আগে আগে বিল দেয়ার মত স্মার্ট ন হতে পারেনি। সে শুধু আঙ্গুল গুণে মাসের হিসেব করত আর হতাশ হয়ে পড়ত। সেই ছাত্র জীবন থেকে এখন ঘোর সংসারী জীবনে এসে ন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে।

অফিসেও ন অদৃশ্য। এই অফিসে আজ পনেরো বছর ধরে একই চেয়ার টবিলে কেটে গেছে তবু অফিসের কেউ তাকে দেখতে পায় না। ইনক্লিমেন্ট বোর্ডে তার কথা কেউ কোনদিন তুলেনি। সকলের বেতন বাড়ে, পদন্নতি হয় কিন্তু ন একই চেয়ার টবিলে বসে কলম পিষে যায়। হবে কিভাবে, সে তো অদৃশ্য। সে থাকে সকলের দৃষ্টির বাইরে। ন মাঝে মাঝে ভাবে ভালোই হয়েছে সে অদৃশ্য নইলে চাকরিটা এতদিন টেকানো যেত না। খরচ কমানোর জন্য যে দুবার কর্মচারি ছাঁটাই হলো সে দুবারই কি করে যেন ন বেঁচে গেলো! ন ভেবেছিলো কোপটা তার উপর দিয়েই যাবে। কিন্তু সে টিকে গেলো। তার সঙ্গে যে কাজ করত সে চোখ মুছতে মুছতে একদিন চলে গেলো। ন স্তব্ধ হয়ে সেদিন বসে ছিলো অনেকক্ষণ। এই বাজারে চাকরিটা চলে গেলে সবাই মিলে না খেয়ে মরতে হবে। ঘরে স্ত্রী পুত্র কন্যা সব মিলিয়ে তারা ৫টি প্রাণী। ছেলেটি ম্যাট্রিক ফেল করে এখন পাড়ার সেলুনে বসে আড্ডা মারে। বড় মেয়ে টিউশনি করে বিয়ের জন্য গয়নার টাকা জমাচ্ছে। ছোট মেয়েটি পড়ে সিক্সে। বেতনের সামান্য টাকায় বাসা ভাড়া দিয়ে এই শহরে টিকে থাকতে ন-কে হাপিত্যেশ করে মরতে হয়। সেদিন থেকে ন’য়ের অদৃশ্য হওয়ার কষ্ট কমে গেছে। না দেখাই ভালো। সবার চোখের সামনে পড়ে গেলেই তো বিপদ। সবাই তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বসে যাবে- কি করা যায় লোকটাকে নিয়ে? ন চায় না তাকে নিয়ে কেউ ভাবুক। এই যে পথে ঘাটে তাকে কেউ দেখতে পায় না, এ জন্য তার মনে কষ্ট আছে। তবু মাঝে মাঝে মনে হয় ভালোই তো, কেউ তাকে দেখতে পায় না, না দেখতে পাক!

অদৃশ্য ন-কে শুধু দেখতে পায় আইন। এই একটা ব্যাপারই ন ভেবে পায় না আইনের সব কিছুই উল্টো! ন-কে কেউ দেখতে পায় না কিন্তু আইন ঠিক তাকে দেখে ফেলে। আবার যাদেরকে দিব্যি দেখতে পাওয়া যায় আইন তাদেরকে দেখতে পায় না! এই যেমন সেদিন ন লাইনে দাঁড়িয়েছিলো ট্রেনের টিকিট কাটতে, যেমন ভীড় তেমনি বিশৃঙ্খলা। কিছু লোক লাইনে না দাঁড়িয়ে কাউন্টারের সামনে গিয়ে টিকিট ম্যানেজ করে ফেলছে। লাইনে দাঁড়িয়ে ন কয়েকজনের সঙ্গে কিছুক্ষণ চেঁচিয়ে প্রতিবাদ করল। এটা ঠিক না, এটা ঠিক না…। একটু পরে ন বুঝতে পারল প্রতিবাদকারীরা সকলেই তার মত অদৃশ্য। তাদের চিত্কারে কেউ কান দিলো না। দিবে কি করে তাদেরকে তো চোখেই দেখা যায় না! ন সেদিন একটা কাজ করল যা সে কখনো করে না। একটু ‘সিস্টেম’ করার আশায় লাইন ছেড়ে টিকিট কাটতে কাউন্টারের সমানে উঁকিঝুঁকি মারতে লাগল। ওমা কী সাংঘাতিক, কোত্থেকের একজন আইনের রক্ষক এসে হাজির! এতক্ষণ যে ন-কে কেউ দেখতেই পায়নি তাকে ঠিকই আইনের রক্ষক দেখে ফেলল। ভত্সনা করে রক্ষক বলল, ছিঃ আপনাদেন জন্যই আজ এই জাতির কোন উন্নতি হচ্ছে না! একটু সুযোগ পেলেই নিয়ম ভাঙ্গতে শুরু করেন। লজ্জা হওয়া উচিত আপনার… যান লাইনে গিয়ে দাঁড়ান…।

ন মুখ কাচুমাচু করে লাইনে গিয়ে দাঁড়ালো। এরপরই দেখতে পেলো আইন সম্ভবত কালার ব্লাইন্ড। একটা লোক খুবই স্বতস্ফূর্তভাবে কাউন্টারের সমানে গিয়ে কাঁচের দেয়ালের ছোট বৃত্তের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলো টিকেটের জন্য। অন্য হাতে মোবাইলে যেন কাকে শাঁসাচ্ছে। তার চেহারাটা ছিলো ট্রেন্ডার বাক্স ছিনতাইকারীর মত। জিন্সের উপর কালো গেঞ্জি। গলায় স্বর্নের চেইন। হাতে স্বর্নের বেসলেট। আইনের রক্ষক পাশেই দাঁড়ানো ছিলো। তিনি দেখতেই পেলেন না! অন্যদিকে মুখ করে চেয়ে রইলেন।

অফিসেও একই ব্যাপার। যেদিন ন ছোটখাটো আইন অঙ্গ করে ফেলে সেদিন অফিসের ‘আইনের চোখ’ ঠিক তাকে দেখে ফেলে। ন একদি পাঁচ মিনিট লেট করে অফিসে এলো। বাসে বেজায় ভীড় ছিলো। রড ধরে দাঁড়িয়েছিলো ন। দুপাশে রড ধরে দাঁড়ানো মানুষের পাছায় পাছায় লাগালাগি তার মধ্য দিয়ে কন্ডাক্টার ভাড়া কাটতে পথ করে নিচ্ছে। যথারীতি বাসেও ন অদৃশ্য হয়ে ছিলো। একটা সিট খালি হলে একটু বসার সুযোগ পাওয়া মানে এই নরক যন্ত্রণা থেকে খানিক রেহাই পাওয়া। ন বহুদিন দেখেছে তাকে সমানে রেখে একটু দূরে বসা অপরজনকে হাতে ইশারা দিয়ে বসতে দিচ্ছে। ন রোগা পটকা। তাকে বসতে দিলে পাশের জনের সুবিধাই হওয়ার কথা। কিন্তু ন’য়ের বগলের তলা দিয়ে সুন্দর পোশাক আর ‘বড়লোক চেহারার’ কাউকে ‘এই যে’ ডেকে দিব্যি অচেনা লোক আরেক অচেনাকে বসতে সুযোগ করে দিচ্ছে। অথচ ন তাদের চোখের সামনেই রড ধরে অনেক কষ্ট করে দাঁড়িয়েছিলো। খুবই হেঁজিপেজি একজন মানুষ ন। তার উপর সে হচ্ছে অদৃশ্য। তাই দাঁড়িয়েই থাকে ন। পা রাখার জায়গা নেই বাসে। ন বাস থেকে নেমে গেলো অফিস আসার আরো দশ মিনিটের পথ বাকী থাকতে। হেঁটে হেঁটে সেদিন অফিস যেতে পাঁচ মিনিট লেট। অফিস ঢুকতেই চোঁ করে আইনের রক্ষক এসে পাকড়ালো ন-কে।
এ মাসে ক’দিন লেট হলো?
স্যার, শুধু আজকের দিনটাই, আমার তো লেট হয় না। যদি একটু কনসিডার করেন…
ছিঃ! লেট করেছেন সেটা অন্যায়, আবার অন্যায়কে বলছেন মেনে নিতে? আর দুদিন লেট হলে আপনার বেতন টাকা যাবে…
ন দেখেছে অফিসের ম্যানেজাররা প্রায়ই দেরী করে আসেন। কোনদিন তাদের আইনের রক্ষকদের চোখের সামনে পড়তে হয় না। আইনের রক্ষক তাদেরকে দেখতেই পায় না। তাদের বেতনও কাটাও যায় না। অথচ অফিসের আইন সকলের জন্য বানানো হয়েছে। অফিসের আইনের রক্ষক ডিপার্টমেন্ট শুধু ন-কেই দেখতে পায়। যে সব পিয়ন অফিসে লাঞ্চ সাপ্লাই দেয়, সুদে টাকা ধার দেয় তাদেরও ভেদ করে শুধু আইনের রক্ষক ন-কেই দেখতে পায়।

ন অফিস করে মন দিয়ে। কিন্তু তার কাজ কেউ দেখতে পায় না। পাঁচটার পর ন অফিস থেকে বেরিয়ে মুক্তির হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। পরদিন আবার এখানে আসতে হবে ভবে তার কান্না পায়। কিন্তু না এলে খাবে কি? ন ভাবে যদি একটা চা সিগারেটের দোকান দেয়া যায় রাস্তায়। ন দুপুরে যে দোকানে রুটি কলা খায় সেই লোক এবার গ্রামে পাকা ঘর দিয়েছে। বিঘে বিঘে জমি কিনে প্রতি বছর। ন’য়ের সামাজিক স্টেটাস কিঞ্চিত মধ্যবিত্ত বিধায় রাস্তায় চা সিগারেট বেচার চিন্তাটা সাহস ভরে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কিন্তু এখন মাঝে মাঝে মনে হয়, কি হবে এত ভেবে? টাকাটাই তো সব। আর কত চাকরি করবে? কি ভবিষ্যত? ওভার ব্রিজের উপর ন বাদাম ভেঙ্গে খেতে খেতে ভাবে। নিচে গাড়িগুলো ছুটে চলে। মাঝে মাঝে এখান থেকে ন’য়ের লাফিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে। কি হবে যদি সে লাফিয়ে পড়ে? অদৃশ্য ন’য়ের দেহ কি এই শহরকে বিন্দুমাত্র আহত করবে? একটা কুকুরকে আহত হতে দেখে ন। প্রাইভেট কার একটা পা থেঁতলে দিয়েছে। কয়েকটা কুকুর প্রতিবাদ শুরু করে ঘেউ ঘেউ করে। কিছু পথশিশু কুকুরদের হয়ে প্রতিবাদে এগিয়ে আসে। গাড়ি আটকে দেয়। প্রাইভেট কারের ড্রাইভারকে ধরে রাখে। জ্যাম লেগে যায় মুহুর্তে। ট্রাফিক পুলিশ চলে আসে। বাস ভর্তির মানুষ নাটক দেখার মত করে কুকুর আর পথশিশুগুলোকে দেখছে। ন বাদাম শেষ হতে হতে সে দৃশ্য পুরোপুরি মুছে যায়। কে কোথায় চলে যায় মনেও থাকে না।

পাড়ায় যখন ন পৌঁছাল তখন আটটা বাজে। মোড়েই বাচ্চা বাচ্চা পোলাপান বিড়ি ফুঁকে ন আসা যাওয়ার পথেই। অথচ পাশের বাসার আসগর মিয়াকে দেখলেই ওরা বিড়ি লুকায় সেলাম দেয়। আসগর মিয়া শ্রমিক লীগ করে। ন পাড়ায় ঢুকতেই দেখে রোজকার মত পোলপান আড্ডা মারছে। ন’কে তারা দেখতেই পেলো না। ন মাথা নিচু করে পাশ কেটে চলে গেলো। বাসার গেইটে ঢুকার সময় মনে হলো বড় মেয়ে গলিতে দাঁড়িয়ে আছে। অচেনা একটা ছেলের সঙ্গে কথা বলছে। আজকাল ঘরের ছেলেমেয়েও তাকে দেখতে পায় না। তার সামনেই একটা অচেনা ছেলের সঙ্গে খুব ভাব নিয়ে কথা বলছিলো মেয়ে। যেন বাবাকে সে দেখতেই পায়নি। ছেলেটাও একটা রোগা পটকা লোককে ভেদ করে গলির ঐদিকে একবার তাকাচ্ছিল একবার মেয়ের দিকে। ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘরে গেলো।

ঘরে স্ত্রী গজগজ করছিলো। রোজই করে। বালের সংসারে আর থাকুম না! আর পারি না! ক্যামনে চালায় মাইনষে এই সংসার!…
ন বাথরুমে গিয়ে হাত পা ধোয়। শার্ট খুলে খালি গা লুঙ্গি পরে খাটে বসে। স্ত্রী গিজগিজ করতেই থাকে। ন’কে মনে হয় সে দেখতে পায়নি। অন্তত ঘরে আসার পর যে যেভাবে স্বগত সংলাপ আউড়ে যাচ্ছে মনে হয় না ন’য়ের অস্তিত্ব সে টের পেয়েছে! ন একবার বলল ভাতটাত কিছু আছে? স্ত্রী সে কথার উত্তর না দিয়ে বকবক করেই যাচ্ছে। কোন ফাঁকে ভাত তরকারি বেড়ে রেখেছে পাশের ঘরে ন সে ঘরে একবার উঁকি না দিলে জানতেও পারত না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ন ভাত খেতে বসে। রোজকার অতি সাধারণ ভাত তরকারি। ন ক্ষুধার্ত্বের মত খেতে থাকে। স্ত্রীর গজগজ তখন থেমে গেছে। কি একটা কাজ নিয়ে সে তখন ব্যস্ত। ছোট মেয়ে পড়ছে। ছেলেটা তো বারোটা একটার আগে ঘরে ফেরে না। আজকাল বড় মেয়ে কোথায় যায় কখন ফেরে ন বুঝতেও পারে না। সেদিন এইসব নিয়ে খুব ঝগড়া ঝাটি হলো। ন মেয়েকে কৈফিয়ত চাইতেই মেয়ে ফোঁস করে উঠেছিলো। আমার ব্যাপারে কেউ নাক না গলালে খুশি হমু!… স্ত্রী মেয়ের উকিল হয়ে জেরা করতে শুরু করে ন’কে। মাইয়ার লাইগা একটা সম্বন্ধ আনতে পারছো জীবনে? এত কথা কও ক্যান? ওর ভবিষ্যত ওরে দেখতে দেও…
সেই থেকে ন আর কারোর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবে না। সংসারে সে এখন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে।

রাতে ভাত খাওয়ার পর ন ছাদে গিয়ে একটা সিগারেট খায়। এই সময়টাই তার বড় প্রিয়। শহরের সমস্ত কোলাহল পিছনে ফেলে এই নির্জন রাতে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে ন। সস্তার সিগারেট পুড়তে থাকে আঙ্গুলের ফাঁকে। আকাশের তারাগুলো বৃথাই গুণতে শুরু করে ন…।

ছাদ থেকে নেমে ন বাথরুমে যায় মুখ ধুতে। দাড়ি কাটার একটা আয়না সেখানে বহুদিনের পুরোনো হয়ে এখন আবছা মুখটা দেখা যায়। মুখে চোখে জলের ঝাপটা মেরে রোজকার মত ন সেই আয়নাতে তাকায়। ন বিড়বিড় করে বলে, কেমন আছত? সারাদিনে এই একবারই তোর সঙ্গে কথা হয়। আমি জানি আর কেউ না দেখতে পাইলেও তুই আমারে ঠিকই দেখতে পাস! আমাকে দেইখা তুই হাসস। ভেংচি কাটছ। এই যে অহন কাঁনতাছত!… আমি তোর চোখের পানি দেখতাছি। কাঁদিছ না ভাই! কাইন্দা আর কি হইব…
#সুষুপ্ত_পাঠক
#সুষুপ্ত_পাঠক_এর_ছোটগল্প

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক পেজ

সাবস্ক্রাইব করুন

শেয়ার করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on google
Google+
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram
Share on pocket
Pocket
Share on skype
Skype
Share on xing
XING
Share on stumbleupon
StumbleUpon
Share on mix
Mix